
নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বহু সময় মারা হচ্ছে ডলফিন
ডলফিন হত্যা দণ্ডনীয় অপরাধ। নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বহু সময় ডলফিন মারা হচ্ছে। সম্প্রতি কাটোয়া ও নদিয়ার দিকে উদ্ধার হয়েছে দু'টি মৃত ডলফিন। তারপরই তৎপর হয়ে লুপ্তপ্রায় গাঙ্গেয় ডলফিন বাঁচাতে ফের প্রচারে নামল বন দফতর।
কেতুগ্রামের কল্যাণপুর থেকে কাটোয়ার কাছে ভাগীরথী ও অজয় নদের মোহনা ডলফিনদের চারণভূমি। অজয়-ভাগীরথীর সঙ্গমস্থলে প্রায়ই ভেসে উঠতে দেখা যায় ডলফিন। বন দফতর সূত্রে খবর, এই এলাকায় ডলফিন বংশবৃদ্ধিও করছে। গত বছর প্রায় ১১টি ডলফিন এই এলাকায় সন্তান প্রসব করেছিল বলে জানা গিয়েছে। কল্যাণপুর থেকে পাটুলি পর্যন্ত প্রায় ৩০টি ডলফিনের বিচরণক্ষেত্র বলে দাবি বন দফতরের। এ বছর নতুন করে আরও কয়েকটি ডলফিন সন্তানপ্রসব করেছে।
গত বছর কাটোয়া শাঁখাইঘাট এলাকায় ডলফিন সংরক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করে রাজ্য বন দফতর। ডলফিন সম্পর্কে সচেতন করা হয় মানুষকে। অতীতে বিভিন্ন সময়ে ডলফিন হত্যার ঘটনা সামনে আসে। বিশেষ করে অভিযোগের আঙুল ওঠে ভাগীরথীতে মাছ ধরা জেলেদের দিকে। তাঁদের মাছ ধরারা জালে বহু সময় আটকে যায় ডলফিন। জাল বাঁচাতে ডলফিন হত্যাই তখন সহজ পথ বলে মনে করেন জেলেরা। সেক্ষেত্রে পিটিয়ে মারা হয় ডলফিনগুলো। এই ঘটনা যাতে না ঘটে, ভাগীরথীর কাটোয়া তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ডলফিন বাঁচানোর বার্তা দিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন বন দফতরের কর্মীরা।
ডলফিন নিয়ে সচেতনতার পাশাপাশি ডলফিন হত্যা করলে আইনত কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে প্রচার করা হচ্ছে তাও। কাটোয়া শাঁখাইঘাট, মরাঘাট, ফেরিঘাট সমেত বিভিন্ন জায়গায় ট্যাবলো নিয়ে চলছে প্রচার। ভাগীরথী লাগোয়া কাটোয়া-কেতুগ্রাম অঞ্চলে যে সব ডলফিন দেখা যায়, সেগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে সচেষ্ট থেকেছে বন দফতর। এই ডলফিনগুলো যাতে না মারা হয় তার জন্য ব্যনার, পোস্টারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকেও সচেতন করার কাজ চলছে।পাশাপাশি নজরদারি চালানো হচ্ছে, কাউকে ডলফিন হত্যা করতে দেখা গেলেই আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে দফতরের তরফে।
