
পুজোর ক’দিন ‘ভিআইপি’-দের লাল-নীল বাতি লাগানো গাড়িও নিষিদ্ধ
একদিকে ভিড়ে হাঁসফাঁস অবস্থা। অন্যদিকে, ব্যারিকেড করা একটা ফাঁকা লেন দিয়ে বুক ফুলিয়ে হেলতে-দুলতে হেঁটে যাচ্ছেন কয়েকজন। ভিড়ে আটকে ঘামতে ঘামতেই হাজার-জোড়া চোখ চাতক হয়ে দেখছে সেই গুটিকয়েক ভাগ্যবান মানুষের অবাধ এগিয়ে যাওয়া মণ্ডপের দিকে। ঠাকুর দেখতে এসে তাঁদের পাঞ্জাবিতে ভাঁজ বাড়ে না, শাড়ির কোঁচা নষ্ট হয় না, ঘাম সামান্যও লেপ্টে দেয় না সাজ। তাদের কাছে অমূল্য ছাড়পত্র আছে, যা দেখিয়ে দিব্বি ঢুকে পরা যায় ‘ভিআইপি লাইনে’।
এই ‘ভিআইপি লাইন’ ঘিরে আমাদের কত ঈর্ষা, কত লোভ, বিরক্তি, বাঁশের ফাঁক দিয়ে কোনোমতে অনুপ্রবেশের ব্যর্থ চেষ্টা। এই ভিআইপি কার্ড জোগাড় করার জন্য কত প্রভাবশালী দাদা-কাকা-জেঠুদের পায়ে পড়া, বড়ো পুজোর একটা-দুটো কার্ড জোগাড় হলেই গর্বে বুক ফুলে যাওয়া দুই ইঞ্চি। দুর্গাপুজো আর ভিআইপি লাইনের মাঝে এমনই এক ‘প্রভাবশালী’ সম্পর্কের ইতিহাস।
সেই ‘ভিআইপি লাইন’-ই এবার থেকে চলে যাবে নিরুদ্দেশের খাতায়। গতকাল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন, পুজোয় ভিআইপি-দের জন্য কোনো বিশেষ সুবিধেই না রাখার। বলেছেন, “পুজোর সময় ভিআইপি আবার কী? সবাই এলআইপি।” এলআইপি মানে হল লেস ইম্পর্টেন্ট পার্সনস। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, এই ভিআইপি-দের বিশেষ সুবিধে করে দেওয়ার ঠেলায় সাধারণ দর্শনার্থীরা অসুবিধের মুখে পড়েন। অতএব ভিআইপি লাইন বাতিল, বাতিল পুজোর ক’দিন লাল-নীল বাতি জ্বালিয়ে ভিআইপিদের ঘুরে বেড়ানোও।
ভিআইপি লাইন বাতিল হলে ঠাকুর দেখার নিয়মে সাম্য আসবে। লাইন চওড়া হওয়ায় ভিড়ের চাপও কমবে নিশ্চয়ই। এই নির্দেশের সবটাই ভালো, সবটাই সাধু।
শুধু, লটারি পাওয়ার মতো ‘ভিআইপি কার্ড’ হাতে পাওয়ার মজাটা ভ্যানিশ হয়ে যাবে চিরতরে।
