
এই ভিল নেতা ‘ভিলস্থান’ রাজ্যের দাবিদার
ছোটুভাই অমরসিনভাই বাসবা। গুজরাতের বেশ ডাকসাইটে আদিবাসী নেতা। ২০০৭ ও ২০১২, দুবারই নীতীশ কুমারের দলের হয়ে ঝাগাড়িয়া বিধানসভা আসন থেকে জয়ী হয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন গুজরাত বিধানসভায়। এই ভিল নেতা ‘ভিলস্থান’ রাজ্যের দাবিদার। তাঁর স্বপ্ন গুজরাত, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশের সংলগ্ন আদিবাসী এলাকাগুলি নিয়ে তৈরি হবে ওই রাজ্য। এই সব নিয়ে বেশ ভালই ছিলেন বাসবা। হঠাৎই সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেল। আহমেদ প্যাটেলের রাজ্যসভায় যাওয়া নিয়ে তৈরি হল প্রশ্নচিহ্ণ। ততদিনে নীতীশ কুমার বিরোধীদের সঙ্গ ছেড়ে ফের বিজেপির বন্ধু হয়েছেন। তিনি বললেন, প্যাটেলের বিরুদ্ধে ভোট দিতে। কিন্তু বাসবা রাজি হলেন না। নানা বিতর্কে ভরা সেই ভোটে বাসবার ভোটটাই হয়ে দাঁড়াল নির্ণায়ক। অমিত শাহদের চ্যালেঞ্জ ব্যর্থ করে জিতে গেলেন প্যাটেল। আর তারপর থেকেই বাসবার জীবনে নেমে এল নানা রকমের দুঃখ।
কী রকম দুঃখ? শুক্রবার ফেসবুকে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে কিছু পুলিশ অফিসারের সাহায্যে ভুয়ো এনকাউন্টারে তাঁকে মেরে ফেলতে পারেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। তাঁর দাবি, অমিত শাহের ইশারায় তাঁর বাড়িতে ইতিমধ্যেই পুলিশ তল্লাসি চালিয়েছে। কিন্তু শুধু এইটাই তাঁর দুঃখের একমাত্র কারণ নয়। কংগ্রেসকে সমর্থনের জেরে বাসবাকে ছাড়তে হয়েছে নীতিশ কুমারের দল। শরদ যাদবের সঙ্গে তিনিও সংযুক্ত জনতা দল ছেড়ে বেরিয়ে এসে তৈরি করেছেন ভারতীয় ট্রাইবাল পার্টি (বিটিপি)। আদিবাসী ভোটের টানে নবগঠিত ওই দলকে এবারের ভোটে ৬ টি আসন ছেড়েছে কংগ্রেস। কিন্তু তাঁর দলের নতুন প্রতীক চিহ্ণ সকলকে দেওয়া যায়নি। তিনটি আসনে বিটিপির প্রার্থীরা লড়ছেন কংগ্রেসের প্রতীকে। যদি জেতেন, তাঁরা হবেন কংগ্রেসের বিধায়ক। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে বাসবা কংগ্রেসের সঙ্গ ছাড়তে চাইলেও তাঁরা বাসবার সঙ্গে আসতে পারবেন না। ফলে বাসবার নড়াচড়ার ক্ষমতাও সীমিত হয়ে যাবে।
বাসবা এবারও প্রার্থী হয়েছেন জাঘাডিয়া কেন্দ্র থেকে। ভেবেছিলেন নতুন প্রতীকে লড়বেন। মানুষকে তো চেনাতে হবে প্রতীকটা। কিন্তু বিধি বাম। শুরু থেকেই নানা ঝামেলা। তাঁকে বিপাকে ফেলতে এবারে নীতীশ কুমার ওই বিধানসভা আসন থেকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন আর এক ছোটুভাই বাসবাকে। রাজনৈতিকভাবে কূলগোত্রহীন এই নতুন বাসবা লড়ছেন সেই ‘তীর’ প্রতীকে যা গতবার ছিল আসল বাসবার। এখন ভোটের লড়াইয়ে তো ‘আমিই আদি বাসবা’ বলে পেটেন্ট নেওয়া যায় না। তাই প্রচারের প্রথম দফায় বাসবাকে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে নিজের কেন্দ্রের ভোটারদের এই কথা বোঝাতে যে ওই নবাগত ছোটু বাসবাকে কেউ যেন ভোট না দেন। তাতেও নিশ্চিত হতে না পেরে তিনি শেষ পর্যন্ত মানুষের কাছে বেশি পরিচিত কংগ্রেসের প্রতীকেই লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার সঙ্গে আছে ভোটে লড়ার খরচের সমস্যাও। আগে সেই টাকাটা আসত নীতীশের দলের থেকে। এখন কংগ্রেসই ভরসা।
ছোটুভাই বাসবা বা তাঁর সঙ্গীরা ভোটে জিতবেন না হারবেন, সেটা বড় প্রশ্ন নয়। প্রশ্ন হল আমাদের দেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় ছোট দলগুলির সমস্যার সমাধান হবে কী করে? অমিত শাহ তাঁকে খুন করার ছক কষছেন বলে বাসবার অভিযোগ নেহাতই ভোটের ময়দানে কিছুটা সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা হিসাবে গণ্য হলেও হতে পারে। কিন্তু তাঁর বাকি সমস্যাগুলো তো মনগড়া নয়। বাসবার অসহায়তা কিন্তু সংসদীয় ব্যবস্থার একটা বড় দুর্লতাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে। কোনও লড়াইতেই কারও বিরাট কোনও ডিসঅ্যাভান্টেজ থাকা উচিত নয়। যাঁরা ভোটে লড়ছেন তাঁদের মধ্যে এতটা বৈষম্য থাকলে বাসবার মতো লোকেরা মাথা তুলে দাঁড়াবেন কীভাবে?, সেটা ভাবা দরকার।
