ভ্যালেন্টাইন’স ডে কি আদৌ বাঙালির আপন

৪৯৬ সালে পোপ ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে ভ্যালেন্টাইন দিবস ঘোষণা করেন

২৬৯ সালে ইতালির রোম নগরীতে সেন্ট ভ্যালেইটাইন'স নামে একজন খৃষ্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ছিলেন। ধর্ম প্রচার-অভিযোগে তৎকালীন রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্রাডিয়াস তাঁকে বন্দী করেন। কারণ তখন রোমান সাম্রাজ্যে খৃষ্টান ধর্ম প্রচার নিষিদ্ধ ছিল। বন্দী অবস্থায় তিনি জনৈক কারারক্ষীর দৃষ্টহীন মেয়েকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলেন। এতে সেন্ট ভ্যালেইটাইনের জনপ্রিয়তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজা তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সেই দিন ১৪ই ফেব্রুয়ারি ছিল। অতঃপর ৪৯৬ সালে পোপ সেন্ট জেলাসিউও ১ম জুলিয়াস ভ্যালেইটাইন'স স্মরণে ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে ভ্যালেন্টাইন দিবস ঘোষণা করেন।

উইকিপিডিয়া অনুযায়ী, ওপরের অংশটি হল ভ্যালেন্টাইন’স ডে-র উৎপত্তির ইতিহাস। যে ভ্যালেন্টাইন’স ডে নিয়ে উত্তাল সারাটা বিশ্ব। দিনটি বদলে গেছে ‘ভালোবাসার দিবস’এ। পাশাপাশি, বাঙালির ‘ভ্যালেনটাইন’স ডে’ হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে সরস্বতী পুজোর দিনও। যে ভ্যালেন্টাইন’স ডে নিয়ে এত মাতামাতি চারপাশে, আম বাঙালির মধ্যে সত্যিই তার উৎসাহ বা প্রভাব কতটুকু?

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, নয়ের দশকের আগে এই দিনটি নিয়ে বিশেষ মাথাব্যথা ছিল না বাঙালিদের। সপ্তদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডে ভ্যালেন্টাইন’স ডে পালন করা শুরু হয়। একে একে ইউরোপের অন্যান্য দেশে ও আমেরিকাতেও। ভারতের কিছুই যায়-আসেনি তাতে। নয়ের দশকে অর্থনৈতিক মুক্তির পর বিশ্বায়নের যে জোয়ার এল, তার স্রোতে পশ্চিমা দেশগুলির অনেক সংস্কৃতি ও আচার-আচরণের সঙ্গে ভ্যালেন্টাইন’স ডে-ও ঢুকে পড়ল বাঙালির মনে। যদিও কমবয়সিদের মধ্যেই প্রভাব ফেলেছিল বেশি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গত কুড়ি-পঁচিশ বছরে আরও ডালপালা মেলেছে এই দিন। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে মধ্যবয়স্ক – এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে প্রৌঢ়দের মধ্যেও দোলা জাগায় দিনটি? কিন্তু কতটা খাঁটি, আর কতটাই বা হুজুগে মেতে ওঠা?

শান্তভাবে ভাবলে বোঝা যায়, হুজুগের পরিমাণই বেশি। কেননা চারপাশের দৈনন্দিন পৃথিবীতে কোনও বদলই আনে না এই দিন। নিভৃত প্রেমিক-প্রেমিকাটির চোখের কোণে আলোর ঝলকানি জন্ম নেয় শুধু। পাশাপাশি দুটো হাত আরও বিশ্বাসে আঁকড়ে ধরে একে অপরকে। এবং একই সঙ্গে, একটা বিতর্কেরও জন্ম নেয়।

বিতর্কটি হল, ভালোবাসার কি নির্দিষ্ট কোনও দিন হয়? ক্যালেন্ডারের একটা খোপে কি বাঁধা যায় ভালোবাসার বা সম্পর্কের পরিধি? নাকের গোড়ায় চশমা ঝুলিয়ে অনেকেই এই প্রশ্ন তুলতে পারেন, তোলেনও। উত্তর হল – না, যায় না। তবে, বিশেষ একটা দিন, যদি হুজুগও হয়, বাড়তি আনন্দ এনে দিলে তাতে ক্ষতি কিছু নেই। ভালোবাসার ভাগ কমে যাচ্ছে না তাতে। তবে দেখনদারিসর্বস্ব হলে বিপদ। লোকদেখানো নয়, ভেতর থেকে যদি প্রেমিক-প্রেমিকার মনে বসন্তের কোকিলডাক শোনা যায়ই, আর তা যদি নির্দিষ্ট দিনেও হয়, ক্ষতি নেই।

আসল কথা হল – ভালোবাসা। বাকিটা বাঙালি নিজের মতো গড়েপিটে নিক। বাধ্যবাধকতা বা গোঁড়ামি কিছুই নেই।

Developed by DXDasia