
অক্ষয়কুমার দত্তের ২০০তম জন্মবার্ষিকী আজ
ঈশ্বরের প্রতি প্রার্থনার আদৌ কোনো দরকার আছে? অক্ষয়কুমার দত্ত অঙ্কের সমীকরণ দিয়ে প্রমাণ করলেন: পরিশ্রম=শস্য। পরিশ্রম+প্রার্থনা=শস্য। অতএব, প্রার্থনা=শূন্য। প্রার্থনার কোনো উপযোগিতা নেই। উনিশ শতকের বাংলায় আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল তাঁর এই যুক্তি। আজ সেই আদ্যান্ত বিজ্ঞানমনস্ক মানুষটির ২০০তম জন্মদিন।
কর্মজীবন শুরু করেছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকায় লেখালেখির মধ্য দিয়ে। এখানে প্রবন্ধ লেখালেখির সূত্রে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে পরিচয় হল। যোগ দিলেন তত্ত্ববোধিনী সভায়। তত্ত্ববোধিনী পাঠশালার জন্য লিখে ফেললেন ‘ভূগোল’ নামের এক বই, যেটা বাংলায় প্রথম বিজ্ঞান বিষয়ক বই হিসেবে স্বীকৃত। তারপর ‘পদার্থবিদ্যা’ নামের বইও লিখলেন। বাংলা ভাষায় সেটাই প্রথম বিশুদ্ধ বিজ্ঞানের বই। ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকার শুরু থেকে সম্পাদনার দায়িত্ব সামলেছেন অনেক বছর। বাংলা লেখায় যতিচিহ্নের প্রবর্তন তিনিই করেন। ‘অনুবীক্ষণ’, ‘চুম্বক’, ‘মধ্যাকর্ষণ’, ‘সৌরজগৎ’-এর মতো বিজ্ঞানের অসংখ্য পরিভাষা বাংলায় চালু করেন। ডেভিড হেয়ারের স্মরণসভায় রীতি ভেঙে বক্তৃতা দেন বাংলায়।
মাতৃভাষায় শিক্ষার ওপর প্রথম যারা গুরুত্ব দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে অক্ষয়কুমার দত্তের নাম একেবারে প্রথম দিকে। বাঙালিদের মধ্যে অনেক কিছুই প্রথম চালু করেছিলেন তিনি। ব্রাহ্ম সমাজে যোগ দিলেও অস্বীকার করেছিলেন প্রার্থনার উপযোগিতা। অন্ধবিশ্বাস এবং কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন আজীবন। ‘ছন্দের জাদুকর’ সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত তাঁরই নাতি।
