উত্তমকুমার, তরুণকুমারকে ‘ছেলে’ বলে সম্বোধন করতেন নিঃসন্তান তুলসী চক্রবর্তী

তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের এক প্রবাদপ্রতীম অভিনেতা

অভিনয়ের গুণে যে কোনো চরিত্রকে জীবন্ত করে দিতেন তুলসী চক্রবর্তী। ভালো গাইতে পারতেন, নাচেও দক্ষতা ছিল, তবলা এবং নানান বাজনায় ছিলেন পারদর্শী। এগুলির সঙ্গে যোগ হয়েছিল অভিনয়ের সাবলীলতা। ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত বিনয়ী এই মানুষটি রুপোলি পর্দায় তাক লাগিয়ে দিতেন দর্শকদের। আজ তাঁর ৫৮তম মৃত্যুবার্ষিকী।

১৮৯৯ সালের ৩ মার্চ তুলসী চক্রবর্তীর জন্ম হয়। ছোটোবেলা কেটেছিল জ্যাঠার কাছে। জ্যাঠা প্রসাদ চক্রবর্তীর অর্কেস্ট্রা ছিল। তিনি স্টার থিয়েটারে কাজ করতেন। জ্যাঠার সঙ্গে থিয়েটারে যেতেন তুলসী, তখনই তাঁর মধ্যে অভিনয়ের প্রাথমিক আগ্রহ জেগেছিল। কর্মজীবনের অনেক রকম পেশার অভিজ্ঞতা হয়েছিল তাঁর। মদের দোকানে বয়ের কাজ করেছেন, সার্কাসের জোকারও ছিলেন। ছাপাখানায় কম্পোজিটারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, এমন সময়ে একটা থিয়েটারের হ্যান্ডবিলে নজর পড়ে তার। অভিনয়ের প্রতি সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা জেগে ওঠে। ছাপাখানার ৩২ টাকার মাইনে ছেড়ে মাসিক ৮ টাকার মাইনেতে স্টার থিয়েটারে যোগ দিলেন। এভাবেই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে গেল।

উত্তম-সুচিত্রার বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘সাড়ে চুয়াত্তর’-এ মেস মালিকের চরিত্রে অভিনয় করে সবার মন জয় করে নিয়েছিলেন তুলসী। সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’-তে একটু ছোট্ট চরিত্রে দুর্দান্ত পারদর্শিতা দেখান। পরে যখন সত্যজিৎ ‘পরশপাথর’ তৈরি করেন, তুলসী চক্রবর্তীকেই নিলেন মুখ্য ভূমিকায়। উত্তমকুমারের সঙ্গে অনেকগুলি সিনেমায় তুলসী অভিনয় করেন।

দাপুটে অভিনেতা হলেও সারা জীবন তাঁর কেটেছে দারিদ্রের মধ্যে। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান, উত্তমকুমার, তরুণকুমারকে ‘ছেলে’ বলে সম্বোধন করতেন। ১৯৬১ সালের ১১ ডিসেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তুলসী চক্রবর্তী। 

Developed by DXDasia