ট্রাম্পকে এখনও সমর্থন করেন মাত্র ৩৩ শতাংশ আমেরিকান
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমছে। সর্বশেষ জাতীয় জনমত সমীক্ষা থেকে স্পষ্ট তাঁর নিজের সমর্থকদের মধ্যেও ট্রাম্পের যোগ্যতা সম্বন্ধে সন্দেহ জাগছে। গত বুধবার কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের যে সর্বশেষ জাতীয় জনমত সমীক্ষা প্রকাশ করেছে, তাতে ট্রাম্পকে সমর্থন করে এমন আমেরিকানের সংখ্যা এখন মাত্র ৩৩ শতাংশ। তাঁর বিরোধিতা করে এমন আমেরিকানের পরিমাণ ৫৫ শতাংশ। এই সমীক্ষার সবচেয়ে যা উল্লেখযোগ্য তা হলো রিপাবলিকানদের মধ্যেও ট্রাম্পের সমর্থন ৮৪ শতাংশ থেকে কমে ৭৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
ট্রাম্পের একের পর এক মিথ্যা কথা এখন সর্বত্র আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। সোমবার, সপ্তাহের প্রথম দিন ট্রাম্প জানালেন, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট টেলিফোনে সীমান্ত এলাকায় কড়াকড়ি বৃদ্ধি পাওয়ায় তাঁর অভিবাসন নীতির প্রশংসা করেছেন। প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর মেক্সিকো জানাল, না, সাম্প্রতিক সময়ে দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে টেলিফোনে আদৌ কোনো কথাবার্তা হয়নি। এভাবে হাতেনাতে ধরা পড়ে বুধবার হোয়াইট হাউস স্বীকার করল, না, ঠিক টেলিফোনে নয়, তবে কয়েক সপ্তাহ আগে জি-২০ শীর্ষ বৈঠকের সময় তাঁদের মধ্যে এই নিয়ে কথা হয়।
ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, গত নির্বাচনের আগে এক রুশ আইনজীবীর সঙ্গে ট্রাম্প জুনিয়র যে গোপন বৈঠক করে, সে ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। ট্রাম্পের আইনজীবীও এ কথা বলেছিলেন। মঙ্গলবার ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে জানা গেল, এ ব্যাপারে ডন জুনিয়র সত্য গোপন করে যে বক্তব্য সংবাদ মাধ্যমের কাছে প্রেরণ করেন, ট্রাম্প নিজেই তা ‘ডিকটেশন’ দিয়েছেন, বা মুখে মুখে বলে দিয়েছেন। কোনটা সত্যি, এই প্রশ্ন করা হলে হোয়াইট হাউস থেকে বলা হয়, ঠিক ‘ডিকটেশন’ দেওয়া নয়, তবে উদ্বিগ্ন পিতা হিসেবে প্রেসিডেন্ট এ নিয়ে তাঁর অভিমত জানিয়েছিলেন।
আগের সপ্তাহে ভার্জিনিয়ায় বয় স্কাউটদের এক সমাবেশ রাজনৈতিক বক্তৃতা দেওয়ার জন্য ট্রাম্প বিভিন্ন মহলে সমালোচিত হয়েছিলেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, বয় স্কাউটদের প্রধান ফোনে তাঁকে জানিয়েছেন তাঁর সেই ভাষণ ছিল ইতিহাসে সেরা। মঙ্গলবার ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎকার পড়ে সে সংস্থার একজন মুখপাত্র জানালেন, এ রকম কোনো টেলিফোন তাঁরা কেউ করেননি। এবারও হাতে নাতে ধরা পড়ে হোয়াইট হাউস থেকে জানাল হলো, টেলিফোনে নয়, তবে মুখে মুখে অনেকে সে বক্তৃতার প্রশংসা করেছে।
কিছুদিন আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ছয় মাসে তিনি আগের যেকোনো প্রেসিডেন্টের চেয়ে অধিক আইনে স্বাক্ষর দিয়েছেন। সে দাবি মিথ্যা জানিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস হিসাব করে বলেছ, এই ছয় মাসে ট্রাম্প স্বাক্ষর করেছেন এমন আইনের সংখ্যা ৪৫, যার একটিও অর্থপূর্ণ নয়। পক্ষান্তরে প্রথম ছয় মাসে জিমি কার্টার ৭০টি ও বিল ক্লিনটন ৫০টি আইনে স্বাক্ষর করেছিলেন।
এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর গলফ খেলা নিয়ে পর্যন্ত মিথ্যাচার করেছেন। ক্রীড়া পত্রিকা ইলাস্ট্রেটেড স্পোর্টস চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, গলফ খেলায় সময় ট্রাম্প প্রায়ই ভুল দান দেওয়ার পর তাঁকে হিসাবের মধ্যে না নিয়ে পরবর্তী চাল মারতে অভ্যস্ত। এভাবে একের পর এক মিথ্যা বলায় প্রেসিডেন্টের কথার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রিপাবলিকান দলের ভেতরেই অনেকে প্রশ্ন করা শুরু করেছেন দেশের ভেতরেই যদি প্রেসিডেন্টের কথায় আস্থা অর্জিত না হয়, তাহলে দেশের বাইরে কেউ তাঁর কথা গুরুত্বের সঙ্গে কেন গ্রহণ করবে।
