আবার চালু হল দার্জিলিং-এর ট্রয় টেন

ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসাবে তকমা পাওয়া টয় ট্রেন বন্ধ থাকায় অনেকের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দেয়

অল্প সংখ্যক যাত্রী ও পর্যটকদের নিয়ে আবার শুরু হল ট্রয় টেন। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার আন্দোলনের জেরে পাহাড়ে টয় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় গয়াবাড়ি ও সোনাদা রেল ষ্টেশন। ১৫ অক্টোবর রবিবার থেকে শুরু হয়েছে এই পরিষেবা।  এখন ট্রেন চলেছে শিলিগুড়ি থেকে সুকনা পর্যন্ত। 

পাহাড়ে সমস্যার জন্য এতদিন বন্ধ ছিল ট্রয় টেন। অথচ ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসাবে তকমা পাওয়া টয় ট্রেন বন্ধ থাকায় অনেকের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দেয়। এখন পাহাড় স্বাভাবিক। রবিবার শিলিগুড়ি থেকে সুকনা পর্যন্ত টয় ট্রেন চলেছে। ডি এইচ আরের ডিরেক্টর জানিয়েছেন, ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সুকনা, তারপর রং টং শিলিগুড়ি পর্যন্ত চলবে তা। ঐ একই সময়ের মধ্যে দার্জিলিং থেকে ঘুম পর্যন্ত জয় রাইড চালানোর কথা তাঁরা ভাবছেন বলেও জানান ডিরেক্টর। তবে তাঁর মতে, সব কিছু নির্ভর করছে টয় ট্রেনের লাইন কত তাড়াতাড়ি মেরামত হয় তার ওপর। আন্দোলনের বাইরে ভূমি ধসের জন্য পাহাড়ের অনেক রাস্তা ও টয় ট্রেন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাতীয় সড়ক বিভাগ রেলের সঙ্গে যৌথভাবে রেল লাইন ও রাস্তা মেরামত করছে। ২৫ তারিখের মধ্যে তার কিছুটা মেরামত হয়ে গেলে প্রথমে একটি জয় রাইড ট্রেন দার্জিলিং থেকে ঘুম পর্যন্ত চলবে। তারপর পুরো লাইন মেরামত হয়ে গেলে জয় রাইডের সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে ডিরেক্টর জানিয়েছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, টয় ট্রেন বন্ধ থাকায় রেলের প্রতিদিন চার লক্ষ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ১২ জুন থেকে পাহাড় বন্ধ শুরু হয়। আর তার জেরে টয় ট্রেনের এখন পর্যন্ত ১২৪ দিনে চার কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

রবিবার শিলিগুড়ি থেকে সুকনা পর্যন্ত টয় ট্রেন আবার চলতে শুরু করলেও তাতে সেভাবে যাত্রী ছিল না। পুরো পর্যটক মরশুমে দার্জিলিঙে ঘুম পর্যন্ত জয় রাইড চলে ৯টি। এখন ২৫ তারিখ থেকে একটি জয় রাইড ঘুম থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত চালানোর চেষ্টা চলছে বলে জানান ডিরেক্টর। তবে পর্যটক বাড়লে বাকিগুলোও চালানোর চেষ্টা হবে। কিন্তু এখন সেভাবে পাহাড়ে পর্যটক নেই। জি টি এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিনয় তামাং ইতিমধ্যে পাহাড়ে পর্যটকদের আসার জন্য আবেদন করেছেন। বিনয়বাবু বলেছেন, পাহাড়ে পর্যটকরা আসুন। তারা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবেন। প্রসঙ্গত শিলিগুড়ি থেকে পাহাড়ে ন্যারোগেজ রেলপথ তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল ১৮৭৯ সালে। ১৮৮০ সালে ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার থেকে আনা হয় আটটি স্টিম ইঞ্জিন। ১৮৮০ সালে তৎকালীন বড় লাট লর্ড লিটন শিলিগুড়ি থেকে তিন ধারিয়া পর্যন্ত সেই রেল পথের ১৮ মাইল রাস্তা সফর করেন। ১৮৮০ সালের ২৩ আগস্ট লর্ড লিটন শিলিগুড়ি থেকে কারসিয়াং পর্যন্ত টয় ট্রেনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর ১৮৮১ সালের ৪  জুলাই শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত টয় ট্রেন রেল যোগাযোগের শুভ সূচনা হয়। সেই থেকে শুরু। তারপর ভাঙ্গাগড়ার মধ্য দিয়ে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে বিশ্বের পর্যটকদের কাছে নানারকম বিস্ময় তৈরি করে চলছে টয় ট্রেন। এখন এটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসাবেও মর্যাদা পেয়েছে। কিন্তু তা মাঝে মধ্যে বন্ধ হতে থাকায় তার মর্যাদা থাকবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। 

Developed by DXDasia