বিজেপির দুর্নীতির তালিকা প্রকাশ তৃণমূলের

বিজেপিকে চার্জশিট ডেরেক ওব্রায়েনের

দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তে সিবিআই ও ইডি–সহ অন্য কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি কি শুধুই বিরোধীদের জন্য? শাসক দলের ভুরি ভুরি দুর্নীতির তদন্ত কতদূর? প্রশ্ন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের। বিজেপি নেতা ওমন্ত্রীদের বিরুদ্ধে জমে থাকা কেলেঙ্কারিগুলির দীর্ঘ তালিকা প্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দেওয়া ‘দুর্নীতিগ্রস্তদের’ তালিকায় রয়েছেন নীতিন গাডকারি, সু্ষমা স্বরাজ, লালকৃষ্ণ আদবানি, মুরলীমনোহর যোশিরা। তালিকাটি তুলে দেওয়া হয়েছে দলের সাংসদদের হাতেও। লক্ষ্য, সংসদের দুই কক্ষে শাসক দল এবং সরকারকে আক্রমণ করা। দলের রাজ্যসভার নেতা তথা জাতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও’ব্রায়েন বুধবার দিল্লিতে বলেন, ‘বিজেপি-র অপর নাম দুর্নীতি। পা থেকে মাথা পর্যন্ত ডুবে রয়েছেন ওঁরা। গত কয়েক দশক ধরে ভুরি ভুরি দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সে সবের তদন্ত কবে হবে? ক্ষমতায় এসেই ‘বিরোধী-শূন্য দেশ’ গড়তে উঠেপড়ে লেগেছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আসলে দেশ জুড়ে ‘সুপার ইমার্জেন্সি’ চালু করেছে মোদি সরকার।’ ডেরেকের ওই তালিকায় যেমন আছে, আদানি গ্রুপের জমি কেলেঙ্কারি। ২০০১ সালের বালকো, ২০১২ সালের বেলারি মাইনিং ও রেড্ডি ব্রাদার্স মাফিয়া দুর্নীতি, ২০১৩ সালের লোহাচুর নিয়ে দুর্নীতি। ২০০৫ সালের সাংসদ তহবিল নিয়ে দুর্নীতি, একলব্য বিদ্যালয় দুর্নীতি, ২০১১ সালের গুজরাট কো–অপারেটিভ ব্যাঙ্ক দুর্নীতি। পানামা পেপার্স, ব্যাপম কেলেঙ্কারি–সহ আরও অসংখ্য অভিযোগ।

প্রসঙ্গত, ইডি পানামা পেপার্সে নাম থাকায় জিজ্ঞাসাবাদ করল কলকাতার বিশিষ্ট শিল্পপতি শিশির বাজোরিয়াকে। তিনি রাজ্য বিজেপির কার্যকরী সমিতির সদস্য। তাঁকে প্রায় ঘণ্টাখানেক জেরা করে ইডি বুধবার। পরে শিশির বাজোরিয়া সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি যাবতীয় লেনদেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বিধি মেনে ব্যাঙ্কের মাধ্যমেই করেন। বিদেশে কোনও ব্যাঙ্কে কোনও কালো টাকা নেই তাঁর। এই পানামা পেপার্সে নাম থাকার কারণেই অভিযুক্ত হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। ভারতের বেশ কয়েকজন বলিউড অভিনেতা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম পানামা পেপার্সের ওই তালিকায় আছে। পানামা পেপার্স হল এমন একটি নথি যা পানামার একটি ল ফার্ম প্রকাশ করেছে। সেখানকার বিভিন্ন ব্যাঙ্কে যাঁরা কালো টাকা জমিয়েছেন, তাঁদের নামের তালিকা।

Developed by DXDasia