
দুর্ঘটনাগ্রস্ত যুবকের প্রাণ বাঁচালেন ট্রাফিক সার্জেন্ট
বাঘাযতীন রেলগেটের ঠিক মুখে একজন যুবককে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছিলেন গড়িয়া ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট কৌশিক মজুমদার। রবিবার গভীর রাত। ঘড়ির কাঁটা ২টো পেরিয়ে গেছে। রাত্রিকালীন টহল দেওয়ার সময়ে এই দৃশ্য চোখে পড়ে সার্জেন্ট কৌশিকের। যুবকটির পাশেই পড়ে একটি বাইক। দেখে সামান্য দেরিও করেননি কৌশিক। ছুটে যান যুবকটির কাছে।
যুবকটি তখনো জীবিত। অকাতরে রক্তপাত হচ্ছে। যদিও হেলমেট থাকায় মাথায় বড়ো কোন চোট লাগেনি বলেই মনে হয়েছিল সার্জেন্ট কৌশিকের। তবে, অবস্থা যে গুরুতর তা বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত যোগাযোগ করেন গড়িয়া ট্রাফিক গার্ডে। যে কোনো মূল্যে তখন যুবকটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই ছিল প্রধান লক্ষ। ইতিমধ্যে, রাস্তায় একটি গাড়ি দেখতে পেয়ে তাকে দাঁড় করান সার্জেন্ট কৌশিক। অনুরোধ করেন হাসপাতালে পৌঁছে দিতে। এরপর আহত যুবকটিকে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকেরা জানান, আর সামান্য দেরি হলেই হয়তো বাঁচানো যেত না যুবকটিকে।
যুবকটির মোবাইল ফোনও খুঁজে পেয়েছিলেন কৌশিক। যোগাযোগ করেন তাঁর পরিবারের সঙ্গে। জানা যায়, যুবকটির নাম দীপ মণ্ডল। বয়স একুশ। সেই রাতে গড়িয়ায় এক বন্ধুর বাড়ি থেকে বাইকে নিজের বাড়িতে ফিরছিল সে। রাস্তায় কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, সেটা আর সে বলতে পারেনি।
ভালোই আঘাত পেয়েছিল দীপ। চোয়ালের হাড় ভেঙেছে, বাঁ পায়ের বুড়ো আঙুল বাদ গেছে অস্ত্রোপচারে, হাতের হাড় সরেছে। আপাতত দীপের চিকিৎসা চলছে এসএসকেএম হাসপাতালে। প্রাণসংশয় আর নেই তাঁর। অবশ্য, সার্জেন্ট কৌশিক মজুমদার দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে না গেলে তাঁকে বাঁচানো যেত না।
দীপের পরিবারের সবাই বড়ো কৃতজ্ঞ সার্জেন্ট কৌশিকের কাছে। আর, দীপের প্রাণ বাঁচিয়ে খুশি হলেও বিশেষ হেলদোল নেই কৌশিকের। এ তো তাঁর কর্তব্য। আমাদের আশ্বস্ত করে জানাচ্ছেন কৌশিক।
সার্জেন্ট কৌশিক মজুমদারের ছবি কলকাতা পুলিশের ফেসবুক পেজের সূত্রে পাওয়া।
