নদীয়ার প্রাচীন চাঁদকাজীর সমাধি

শ্রীচৈতন্যের ভক্ত ছিলেন এই চাঁদকাজী

কলকাতা থেকে ১২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, শিয়ালদহ থেকে কৃষ্ণনগর লোকালে উঠে কৃষ্ণনগর স্টেশনে নেমে মায়াপুরগামী বাসে উঠলে ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে পৌঁছানো যায় নদীয়ার বামুনপুকুরে। আবার ট্রেনে হাওড়া থেকে নবদ্বীপ পৌঁছে ঘাট পেরোলে মায়াপুর থেকে বামুনপুকুরে আসা যায়। তবে এখানকার অন্যতম উল্লেখযোগ্য পুরাকীর্তি হল চাঁদকাজীর সমাধি।

শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর জীবনী গ্রন্থতে চাঁদকাজীর কথা উল্লেখ রয়েছে। এবং চাঁদকাজী কীভাবে চৈতন্যভক্ত হলেন সেই কাহিনীও রয়েছে। তবে এখানকার লোকেদের মত অনুযায়ী, চাঁদকাজীর আসল নাম ছিল ‘মৌলানা সিরাজউদ্দীন’। তিনি ছিলেন এই অঞ্চলের শাসক এবং গৌড়েশ্বর হুসেন শাহের শিক্ষক। চাঁদকাজী শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ঘোর বিরোধী ছিলেন। এই চাঁদকাজী চৈতন্য দেবের সংকীর্তন বন্ধের আদেশ জারি করেন। এবং তিনি সংকীর্তনকারীদের খোল পর্যন্ত ভেঙে দেন। কিন্তু এই নিয়ম অমান্য করে শ্রীচৈতন্য বিরাট নাম সংকীর্তন দল নিয়ে চাঁদকাজীর বাড়িতে সংকীর্তন করতে থাকেন। এবং সেই দিনে সংকীর্তন শোভাযাত্রা করে চাঁদকাজীর বাড়িতে মহাপ্রভু এবং চাঁদকাজী তর্কযুদ্ধে বসেন। শেষে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্ত হয়ে যান। কেবল ভক্ত নয়, তিনি চৈতন্যগত ভাবাদর্শে দীক্ষিত হয়ে যান।

আরও পড়ুন
লৌকিকতার পূজা

 

সমাধিক্ষেত্রতে ঢোকার সময়ে চোখে পড়ে উঁচু ইটের গাঁথুনি ও লোহার গেট যুক্ত মূল প্রবেশদ্বার। মূল প্রবেশদ্বারে বড় বড় অক্ষরে লিখিত রয়েছে "ভক্ত চাঁদকাজী সমাধি"। তবে সমাধিক্ষেত্রটি পরিচালনা করেন "মায়াপুর শ্রীচৈতন্য মঠ"। সমাধিটি চারিদিকে প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। সমাধির উপরে দীর্ঘ বিশালাকার শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট প্রাচীন এক গোলকচাঁপা গাছ রয়েছে। এখানকার লোকের বিশ্বাস,  এই গোলকচাঁপা গাছটি নাকি চাঁদকাজীকে কবর দেওয়ার সময়েই লাগানো হয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় যে, গাছটি পাঁচশো(প্রতিষ্ঠা লিপিতে বর্ণিত আছে ছবিতে) বছরের প্রাচীন হলেও এখনও পর্যন্ত জীবিত রয়েছে, এবং ফুল ফুটে যাচ্ছে। আর গাছটি এতটাই প্রাচীন যে, গাছটির গোড়া দেখতে অনেকটা কুমীরের গায়ের মত (ছবিতে)। এই সমাধিকে গৌড়ীয় বৈষ্ণবেরা তীর্থ বলে মানেন।

নবদ্বীপ পরিক্রমা সময় ভক্তরা এই গাছের তলায় বসে চৈতন্য ভাগবত থেকে মহাপ্রভুর চাঁদকাজীর উদ্ধার লীলা পাঠ করেন। এখানকার পবিত্র ধূলিস্পর্শ করেন। তবে চাঁদকাজীর বাড়িটি এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত। চাঁদকাজীর সমাধি ক্ষেত্রে একটি প্রতিষ্ঠা লিপি দেখতে পাওয়া যায়। সেখানে খোদিত রয়েছে  নীচের অংশটি। তবে কিছুটা অস্পষ্ট –

"শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য করুণার পুণ্যধারা বিস্তারে সংসারে।
মহামন্ত্র নাম-সংকীর্তন ধ্বনিশ্রুতি জীবাতু সঞ্চারে।।”

Developed by DXDasia