
সমস্ত জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজেই বসবে নিজস্ব অক্সিজেন প্লান্ট
কোভিড পর্বে সারা দেশ তথা এই রাজ্যের মানুষ এবং রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তর বুঝেছে যে, বিপদের সময় দ্রুত অক্সিজেন পাওয়া কতটা জরুরি। শুধু তাই নয়, এও বোঝা গেছে গাড়িতে করে অক্সিজেন সিলিন্ডার আনা এবং তা দেরিতে এসে পৌঁছলে তার ফল কতটা মারাত্মক হতে পারে। আর সেই কারণেই রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সমস্ত জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে নিজস্ব অক্সিজেন প্লান্ট বসবে। সেই মতো সোমবার থেকে রাজ্যের সবচেয়ে বড়ো অক্সিজেন প্লান্ট চালু হল উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, এর জন্য কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর। প্লান্টটির জন্য সেন্ট্রাল অক্সিজেন পাইপ লাইন, ডিজেল জেনারেটর ইত্যাদি আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি কিনতেই খরচ হয়েছে কোটি টাকারও বেশি। পিএসএ (প্রেশার সুইং অ্যাডসর্বশন) অক্সিজেন প্লান্টটি ২০০০ এলপিএম (লিটার পার মিনিট) ক্ষমতাবিশিষ্ট। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এত অল্প সময়ে পরিবেশ থেকে বাতাস নিয়ে এত পরিমাণে অক্সিজেন তৈরির ক্ষমতা রাজ্যের কোনও সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালেরই নেই।
বর্তমানে করোনা রোগীর সংখ্যা কমলেও, রাজ্যে নতুন ভাইরাস স্ট্রেইন এলে, যেকোনও মুহূর্তে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে। তাই উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় হাসপাতালে অক্সিজেনের জোগান পর্যাপ্ত থাকা জরুরি। যতদিন যাচ্ছে দূষণ, ধূমপান, জীবনযাপনের কুঅভ্যাস ইত্যাদি কারণে বুকে সংক্রমণ, সিওপিডি, এমফিসিমা, ফুসফুসের ক্যান্সার বাড়ছে। হাসপাতালে ভর্তি হলে এইসব রোগীদের অনেকেরই অক্সিজেনের দরকার পড়ছে। বর্তমানে গোটা উত্তরবঙ্গ জুড়ে আরএসভি, ইনফ্লুয়েঞ্জা বি প্রভৃতি ভাইরাসের উপদ্রবে কাহিল বহু শিশু। অনেকেরই তীব্র শ্বাসকষ্টের সমস্যা হচ্ছে। লাগছে অক্সিজেন। সব সমস্যারই সমাধান হতে পারে পিএসএ প্লান্টটি।
