
সীতা-গৌতমরা প্রকাশ বাহিনীর কাছে হার মানবেন?
সিপিএম আর চাঁদসি চিকিৎসার মধ্যে একটা অদ্ভুত মিল রয়েছে। পৃথিবী তিনশো ষাট ডিগ্রি ঘুরে গেলেও এদের চলন বলনে কোনও পরিবর্তন আসে না।ঠাট্টা করে বলা হয়, এদের শুদ্ধতা বাতিক এমনই যে, পার্টি অফিসে আগুন লাগলেও সিপিএম নাকি অ্যাকুয়া গার্ডের জল খুঁজবে আগুন নেভাতে। তা না হলে, গোটা দেশে যখন হিন্দু মৌলবাদ ভিত শক্ত করার চেষ্টা করছে, সারা পৃথিবীতে বিভিন্ন অঞ্চলে যখন মুসলিম মৌলবাদ সন্ত্রাসবাদের চেহারা নিয়ে ছড়িয়ে পড়ার চেষ্টা করছে, এই পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তিগুলো যাতে এক জোট না হতে পারে সেটা নিশ্চিত করাই যেন প্রকাশ কারাতদের এক মাত্র কাজ হয়ে উঠেছে। না হলে দেশের এই পরিস্থিতিতে একটা পার্টি মাসের পর মাস সময় কাটাতে পারে রাজ্য কমিটির এক সদস্যের ‘পরকীয়া’ নিয়ে আলোচনা করে! সেই সদস্য, মানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে দুটো কথা এখানে বলে নেওয়া ভালো। মহম্মদ সেলিম, বা প্রকাশ কারাতের থেকে ঋতব্রতর ফেসবুক ফলোয়ার বহুগুণ বেশি। সংসদে তিনি সেলিম বা তাঁর মতো আরো অনেক সিপিএম নেতার থেকে অনেক বেশি সক্রিয়। বিজেপির যেমন ট্রোল বাহিনী আছে, সিপিএমেরও কিছু নেতা বা গোষ্ঠীর তেমন ট্রোল বাহিনি আছে। তারাই সোস্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত ঋতব্রতকে প্রশ্ন করে যায়, মোবাইলটা কোথায় পেলে, জামাটার দাম কত ইত্যাদি ইত্যাদি। একটা যে ষড়যন্ত্রের ব্যাপার আছে তা আরও স্পষ্ট হয় যখন দেখা যায়, ঋতব্রতের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফাঁস করে দওয়া হয়।
প্রকাশ কারাতদের বিরুদ্ধে মুখ খুলে কার্যত শোকজের মুখে পড়েছেন সিপিএম নেতা গৌতম দেবও। যত দূর জানা গিয়েছে, গৌতম খুবই কড়া ভাষায় একেজি ভবনের সেই চিঠির উত্তর দিয়েছেন।
এর পর হয়তো ঋতব্রতও হয়তো মুখ খুলবেন। সোস্যাল মিডিয়ায় তিনি এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন।ঋতব্রত টুইট করে বলেছেন, ‘৯০ দিন ধরে আমি রক্তাক্ত হচ্ছি। যাঁরা আমাকে সমর্থন করেছেন এবং পাশে থেকেছেন, তাঁদের ধন্যবাদ। অগণিত বাম সমর্থকের জন্য আমার মুখ খোলা প্রয়োজন। সেটা আমার কর্তব্য।’
ঋতব্রত ফেসবুকে নিজের ওয়ালে একটি পোস্টারও সেঁটেছেন। প্রয়াত সুভাষ চক্রবর্তী এবং প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেবের ছবি। তার নীচে লিখেছেন— ‘কোটার নয়, জনতার নেতা। শিক্ষক দিবসে শ্রদ্ধা।’
ঐতিহাসিক, প্রাগৈতিহাসিক, ভৌগলিক ইত্যাদি নানা ধরনের ভুল করতে করতে সিপিএম এখন এই রাজ্যে প্রায় মুছে যাওয়ার জায়গায় এসে পৌঁছেছে। অন্তত সাম্প্রতিক এই রাজ্যের দক্ষিণ ও উত্তর বঙ্গের হলদিয়া, দুর্গাপুর, ধূপগুড়ি ইত্যাদি পুরসভার ভোটের যা ফল, তাতে এমন ইঙ্গিতই স্পষ্ট। প্রকাশ কারাতরা একটা কাজ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এবং সাফল্যের সঙ্গে করে চলেছেন। সেটা হল, দলে যাঁরাই একটু আধুনিক চিন্তার মানুষ, সেই জ্যোতি বসু, সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়, সীতারাম ইয়েচুরি, গৌতম দেবের মতো নেতাদের হাতকড়া পরানো।
এখন দেখার সীতারাম-গৌতমরা বিদ্রোহ করবেন, না প্রকাশের সিংহাসনের সামনে দাঁড়িয়ে মিন মিন করেবেন! তার উপরই এই দলটার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
