
একইসঙ্গে রয়েছে বৃক্ষরোপণের জন্য বীজ সংগ্রহও
কেউ পড়ে ক্লাস সিক্সে, কেউ বা এইট, কেউ সামান্য বড়ো। সেই সকালে বেরিয়ে পড়েছে বাড়ি থেকে। তারপর থেকেই টানা ঘুরে চলেছে অযোধ্যার ঢালে ঢালে, বনের ভিতর। গ্রীষ্মের সূর্য চড়া হচ্ছে ক্রমশ। পুড়িয়ে দিচ্ছে গা। কিন্তু ওদের বিরাম নেই। অক্লান্তভাবে অযোধ্যার বুক থেকে ওরা কুড়িয়ে আনছে পলিথিন, প্লাস্টিক, থার্মোকলের থালা-বাটি। অযোধ্যায় প্লাস্টিকের দূষণ মাত্রাছাড়া হয়েছে। বড়োদের হুঁশ নেই। তাই সবুজ কচিরাই ঠিক করেছে বাঁচিয়ে রাখবে অযোধ্যার সবুজ। পরিস্কার করবে অযোধ্যার বুকে জমে থাকা প্লাস্টিকের পাহাড়। একইসঙ্গে চলছে বীজ সংগ্রহও। বর্ষাকালে বৃক্ষরোপণ উৎসব আসছে যে।
অযোধ্যা পাহাড়ের পাদদেশে ভালিডুংরির সিধু কানহু মিশন। এই স্কুলেরই পড়ুয়ারা বেরিয়েছে অযোধ্যার বুক থেকে প্লাস্টিক সরাতে। সঙ্গে বয়সে বড়ো স্থানীয় কয়েকজন মানুষ। উজ্জ্বল মাহাতো, তরুণ মাহাতোর মতো স্থানীয়রাও রয়েছেন একই উদ্যোগে। অযোধ্যাকে দূষণমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন তাঁরা। আর এই উদ্যোগেই জুড়ে গেছে কচি-কাঁচারাও।
তনে শুধু প্লাস্টিক পরিস্কার নয়, চলছে বীজ সংগ্রহও। শাল, মহুল, পলাশ, কেঁদ, কুড়চি, ভেলা ছাড়াও আরো নানান গাছের বীজ সংগ্রহে নেমে পড়েছে কচি-কাঁচারা। বর্ষাকালে গাছ লাগানো হবে পুরুলিয়ার নানা জায়গায়। তারই জন্য এই বীজ সংগ্রহ।
গ্রীষ্মের রোদ চড়া হচ্ছে আরো। কচিকাঁচাদের কিন্তু ভ্রূক্ষেপও নেই। ওরা স্বপ্ন দেখছে অযোধ্যা আরো সবুজ হয়ে উঠবে। আরো খানিক বাসযোগ্য হবে আগামী দিন।
ছবি: তরুণ মাহাতো
