
২২০ ছাত্রীকে পড়াচ্ছিলেন এক জন শিক্ষিকা
স্কুলে মোট শিক্ষিকা তিন জন। অসুস্থতা এবং অন্য কিছু কারণে বাধ্য হয়ে তাঁরা আসতে পারছেন না স্কুলে। তা বলে কি স্কুল হবে না? শিক্ষিকাদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে স্কুলের উঁচু ক্লাসের ছাত্রীরা। স্কুল চালাচ্ছে তারাই। পড়াচ্ছেও তারাই।
ঘটনাটি এরকম। প্রধান শিক্ষিকা নিবেদিতা দাস এবং সহকারী শিক্ষিকা জয়িতা পান রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। ফলে একমাত্র শিক্ষিকা তনুশ্রী মুখোপাধ্যায়ই এত দিন একা হাতে গোটা স্কুলের সব ক্লাস নিচ্ছিলেন। সম্ভবত কাজের চাপেই তিনিও হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ফলে গত শুক্রবার থেকে স্কুলটি শিক্ষিকা শূন্য হয়ে পড়ে। নানুর থানার সাওতা গ্রামের ঘটনা। এই গ্রামের ‘কুমিরা সাওতা এ কে বালিকা বিদ্যালয়’-এ শুক্রবার থেকে বিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষিকা না আসার জন্য স্কুলের ছাত্রীরাই দিদিমনির কাজ করে চলেছে।
শিক্ষক দিবসের দিনে স্কুলের বড় দাদা-দিদিদের ছোটদের ক্লাস নেবার রীতি রয়েছে। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে স্কুলের উঁচু ক্লাসের দিদিরা ‘দিদিমনি’র কাজ করে যাচ্ছে, এটা দৃষ্টান্ত। শুধু ক্লাস নেওয়াই নয়, মিড–ডে মিলের তত্ত্বাবধানও করেছে তারা। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের বিষয়টি নজরে আনতে তিনি অবিলম্বে ব্যবস্থা নেবার আশ্বাস দেন। কুমিরা সাওতা এ কে বালিকা বিদ্যালয়ে মাত্র তিনজন শিক্ষিকা। স্থানীয় বসিন্দারা জানাচ্ছেন, এলাকার মেয়েদের কথা ভেবে ১৯৬৯ সালে নানুরের কুমিরা গ্রামে জুনিয়র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পথ চলা শুরু হয়। সে সময় অষ্টম শ্রেণীর মেয়েদের নিয়ে ক্লাস শুরু হলেও ২০১৪ সালে এই বিদ্যালয় মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হয়। কিন্তু শিক্ষিকার সংখ্যা বাড়েনি। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ের ছাত্রী সংখ্যা প্রায় ২২০, শিক্ষিকা মাত্র ৩ জন। ৬টি শূন্যপদে আজও শিক্ষিকা নিয়োগ হয়নি। রয়েছেন একজন করণিক এবং একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী। স্কুলে ছাত্রী অনুপাতে এমনিতেই শিক্ষিকার সংখ্যা কম। তার ওপর প্রধান শিক্ষিকা নিবেদিতা দাস এবং সহকারী শিক্ষিকা জয়িতা পান রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। ফলে একমাত্র শিক্ষিকা তনুশ্রী মুখোপাধ্যায়ই সব ক্লাস নিতেন। তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়ে ছুটি নিয়েছেন। স্কুলের ভার এখন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী প্রদীপ মুখোপাধ্যায়ের ওপর।
