ধুঁকতে ধুঁকতেও ঐতিহ্যের তালপাখাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন নাজরার মানুষ

চাহিদা কম, লাভ নেই, তবু এই পেশা ছাড়েননি ওঁরা

চড়া গরম কেটে কেটে বড়ো জুড়িয়ে দেওয়া বাতাস বুনছে তালপাতার পাখা। নানাকিছুর মতোই এসবও এখন অতীতের গলিতে ঠাঁই নিয়েছে। এসি, এয়ার কুলার, ফ্যানের যুগে তালপাখার কদর আর কে করবে? জিজ্ঞেস করলেই যে কেউ বলবে, এ তো এখন লুপ্তপ্রায় শিল্প।

তবু, কিছু মানুষ শিকড় ছেড়ে নড়েন না। এই যেমন নাজরার কয়েকঘর মানুষ। আজো তাঁরা আঁকড়ে আছেন তালপাতা তৈরির পেশাকেই। বিক্রি কমে গেছে অনেক। লাভ তেমন হয় না। তবু তাঁরা বাঁচিয়ে রেখেছেন এই শিল্প। তালপাতার পাখা কি নিছক গরমকে হার মানানোর একটি পরিবেশ-বান্ধব উপকরণ মাত্র? এ তো ঐতিহ্যও। এত সহজে একে স্মৃতি হয়ে যেতে দিতে চান না নাজরার শেখপাড়া, ফকিরপাড়ার মানুষজন।

ডায়মন্ড হারবার লাইনে দেউলা স্টেশন থেকে খানিক গেলেই নাজরা। লোকে বলে ‘তালপাখার গ্রাম’। এ গ্রামে এখনো দাওয়ায় বসে বোনা হয় তালপাখা। কার্তিক মাসে শীত-শীত ভাব বাতাসে আসতেই শুরু হয় তালপাতা কাটা। সেই পাতা ভিজিয়ে, শুকিয়ে, সেলাই ও রং করে তৈরি হয় পাখা। খাটনি অনুযায়ী দাম মেলে কই? তবু, পেশা ছাড়বেন না তাঁরা। তবে, খুব বেশি মানুষ এই পেশায় আর না থাকায় চাহিদা কমলেও পুষিয়ে যাচ্ছে কোনোমতে। পেশায় লোক কমায় পরিবার-পিছু অর্ডার বাড়ছে। হাড়ভাঙা খাটনির পরেও এইটুকুই সান্ত্বনা তালপাখার ওস্তাদদের।

গরম বাড়লে খানিক বেশি পাখা বিক্রির স্বপ্ন দেখাটা আজো ছাড়তে পারেননি ওঁরা। 
 

Developed by DXDasia