জেলখানার গান্ধীদের কথা

বহরমপুর সংশোধনাগার এখন কার্যত গান্ধী আশ্রম

অপরাধীদের গান্ধীবাদী করে তুলছেন বহরমপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের সুপার টি আর ভুটিয়া। যাকে জেলে সবাই ভুটিয়া সাহেব বলেই সেলাম ঠোকেন। জেলার এডিএম শমনজিৎ সেনগুপ্তের কাছে প্রথম শুনেছিলাম ভুটিয়া সাহেব নাকি রাতকে দিন করে দিয়েছেন জেলের অভ্যন্তরে। সেই সূত্রে তাঁর কাছে যাওয়া। যেতেই যে ভারি বনেদি চেহারার চেয়ারে তিনি আমাদের বসতে দিলেন, তার সব ক’টিই বন্দিদের তৈরি। তাঁর সঙ্গে গেলাম সাজা প্রাপ্ত বন্দিদের চড়কা ঘর দেখাতে। গিয়ে দেখলাম, বিরাট হল ঘরে চড়কায় মন দিয়ে সুতো কাটছেন বন্দিরা। শান্ত পরিবেশ। পাহারা দেওয়ার কেউ নেই। কিন্তু কাজ এগিয়ে চলেছে। জেলের কর্মচারীদের যত পোশাক সারা বছর লাগে তার সবটাই ওঁরা তৈরি করে দেন। তৈরি করেন নানা ধরনের নানা মাপের রঙিন চটের ব্যাগ। তৈরি হচ্ছে খাট, বেঞ্চ। রয়েছে বেশ বড় মিষ্টির দোকান। রসগোল্লা, সন্দেশ সহ নানা ধরনের মিষ্টি, সবই বন্দিদের তৈরি। অন্য দিকে মাছ চাষের ব্যবস্থা। ফলানো হচ্ছে হরেক রকমের সবজি। একটা ঘরে দেখলাম ৫-৬ জন বন্দি কী যেন করছেন। কানে এল মেশিন চলার শব্দ। কাছে গিয়ে দেখলাম মুড়ি ভাজা হচ্ছে। বন্দিদের বিকেলের জল খাবার। এছাড়া ভুটিয়া সাহেবের তত্ত্বাবধানে এখানে তৈরি হয় বেশ কয়েক ধরনের আচার। গোটা জেলখানাটা দেখলে মনে হবে যেন একটা ক্ষুদ্র শিল্প হাব। 

Developed by DXDasia