
‘সংখ্যালঘু উন্নয়ন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর’-এর কড়া বিবৃতি
সোশ্যাল মিডিয়াতে ফেক নিউজের জবাব দিল রাজ্য সরকার।
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মিড ডে মিল নিয়ে চাঞ্চল্যকর ও ভুল অভিযোগকে নস্যাৎ করে কড়া বিবৃতি দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘সংখ্যালঘু উন্নয়ন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর’। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা নাগাদ কোচবিহারের জেলা শাসকের (সংখ্যালঘু দপ্তর) তরফ থেকে জারি করা একটি নির্দেশিকার স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই পোস্টে বলা হয়, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার সার্কুলার পাঠিয়েছে যে সমস্ত স্কুলে ৭০%-এর বেশি মুসলিম ছাত্রছাত্রী আছে সেখানে ডাইনিং হল এবং টেবিল বানাতে হবে। শিক্ষা বিভাগে হিন্দু মুসলমানের ভেদাভেদ কেন? এর পিছনে কি কোন উদ্দেশ্য আছে?” স্পষ্টতই, সংখ্যালঘু-তোষণের সেই বিতর্কটাকেই উস্কে দিতে চাওয়া হয়েছিল সেই পোস্টে। এই পোস্টের পরেই তোলপাড় শুরু হয়ে যায় সোশাল মিডিয়ায়।
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘সংখ্যালঘু উন্নয়ন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর’। দিলীপ ঘোষের নামোল্লেখ না করেই সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই অভিযোগকে অসত্য এবং বিকৃত বলে উল্লেখ করে তাদের বক্তব্য, মিড ডে মিলের ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য বা তোষণকেই প্রাধান্য দেওয়া হয় না। তারা জানিয়েছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকার নানা দপ্তর থেকে অর্থ বরাদ্দ করে থাকে। মিড ডে মিলের ক্ষেত্রেও অর্থ বরাদ্দের প্রক্রিয়াটি একই। এক্ষেত্রেও শিক্ষার সঙ্গে সংযুক্ত নানা দপ্তর থেকেই অর্থ সংগ্রহ করে রাজ্য সরকার। এই অর্থ মূলত খরচ হয় মিড ডে মিলের জন্য স্বাস্থ্যকর রান্নার পরিবেশ তৈরি এবং ডাইনিং হল নির্মাণের খাতে। এই বছর রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর ৪,৬৪৭টি প্রাইমারি এবং ১৫২৪ উচ্চ প্রাইমারি স্কুলের মিড ডে মিলের খাতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। কিন্তু, মিড ডে মিলের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য আরো অর্থের প্রয়োজন। সেই ঘাটতি পূরণের জন্যই আরো বড়ো পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‘সংখ্যালঘু উন্নয়ন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর’।
একইভাবে, তফশিলি জাতি ও উপজাতি ছাত্রছাত্রী অধ্যুষিত স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল পরিষেবার উন্নয়নের জন্যেও প্রয়োজনীয় অর্থসাহায্য করছে পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তর। যদিও, পরিকাঠামো উন্নয়নের পরে তার সুবিধে ভোগ করে সম্প্রদায়-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সমস্ত ছাত্রছাত্রীরাই। এর সঙ্গে তোষণের কোনো সম্পর্ক নেই বলেই জানিয়েছে তারা।
এমনকি, যে সমস্ত অঞ্চলে ২৫% শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন, সেখানকার স্কুলগুলির পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থের একটা বড়ো অংশ কেন্দ্রীয় সরকারও দিয়ে থাকে। এইজাতীয় অর্থ বরাদ্দের নির্দেশিকার মূল উদ্দেশ্য খুঁটিয়ে না বুঝে এমন মন্তব্য যে অত্যন্ত ভুল ও ক্ষতিকর, সেই বার্তাই দিতে চেয়েছে ‘সংখ্যালঘু উন্নয়ন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর’।
‘সংখ্যালঘু উন্নয়ন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর’-এর এই বিবৃতির পরেও বিতর্ক বন্ধ হয় কিনা, সেটাই এখন দেখার।
