
৮৫ বছর বয়সেও ডাকটিকিট জমিয়ে চলেছেন এই অর্থনীতিবিদ
ছেলেকে একসময় অবসর সময়ে ডাকটিকিট সংগ্রহ করার পরামর্শ দিতেন। আজ ছেলে বড় হয়ে চাকরি করে। পারে না ডাক টিকিট সংগ্রহের নেশা চালিয়ে যেতে। ছেলের নেশা তাই টিকিয়ে রেখেছেন ৮৫ বছরের বৃদ্ধ বাবা। সেই নেশায় তিনি ত্রিশ হাজার ডাকটিকিট সংগ্রহ করে ফেলেছেন। তার সঙ্গে প্রাচীনকালের বহু কয়েনও তিনি নিজের হেফাজতে রেখে দিয়েছেন। তিনি উত্তরবঙ্গের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ডঃ মানস দাসগুপ্ত।
তাঁর ছেলের নাম নীলাঞ্জন দাসগুপ্ত। ১৯৮১ সালে নীলাঞ্জন যাদবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়তে চলে যান। তারপর থেকে ছেলের সেই টিকিট জমানোর নেশা নিজেই ধরে ফেলেন মানসবাবু। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ডাক টিকিট তাঁর কাছে আছে। হিটলারের ডাক টিকিটও। এমনকি, ইউএনও-র সব স্ট্যাম্পই আছে। তার পাশাপাশি অনেক কয়েন। অবসর সময়ে তাঁর এই স্ট্যাম্প ও কয়েন সংগ্রহ করে সময় পার হয়। তার পাশাপাশি বই লেখেন তিনি। এখন পর্যন্ত ১৬টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গের চা বাগানের সমস্যা নিয়ে বই বেশি। তাছাড়া অর্থনৈতিক অসাম্য নিয়েও বই প্রকাশিত হয়েছে। বাংলায় তাঁর বই আছে রাশিয়াতে কম্যুনিজমের পতন নিয়ে।
এই অর্থনীতিবিদ উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৮ সালে অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৫৫-৫৬ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজে অর্থনীতিতে অনার্স নিয়ে পড়ার সময় নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন তার সহপাঠী ছিলেন। ১৯৬৪ সালে তিনি উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসাবে কাজে যোগ দেন। সেখানে বিভাগীয় প্রধান থেকে শুরু করে ডিন, হিমালয়ান স্টাডিজের অধিকর্তা হিসাবেও কাজ করেন। এই সব কাজের ফাঁকে তার ডাকটিকিট সংগ্রহের নেশা সমান তালে চলতে থাকে যা তিনি কারও কাছে প্রকাশ করেননি। আর বাংলা ও ইংরেজিতে বই প্রকাশ করার পাশাপাশি তিনি এখন ফরাসি ভাষায় লেখালেখি করছেন। ফ্রান্সের কিছু পত্রিকায় তিনি ফরাসি ভাষায় লিখেছেন তিনি অর্থনীতির বিষয়ে।
