পুরুলিয়ায় পিকনিকে শালপাতা বাধ্যতামূলক করল প্রশাসন

থার্মোকল দিয়ে আর সবুজ নোংরা করা চলবে না…

থার্মোকলের থালা কেড়ে নিয়ে পিকনিক পার্টির হাতে ধরিয়ে দেওয়া হবে শালপাতার থালা। মাটির গেলাস। পুলিশই এই কাজ করবে। প্লাস্টিকের বোতলে জল নয়, বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে তারও। আর তারস্বরে ডিজে? চলবে না। পুরুলিয়ার জেলা শাসক অলকেশপ্রসাদ রায় জেলার সব বিডিও এবং থানাকে এই নির্দেশ দিয়েছেন। পিকনিক করতে এসে পাহাড়, ঝরনার কোল, নদীর পার, জলাশয়ে এঁটো থার্মোকলের থালা, ব্যবহার করা জলের বোতল, মদের বোতলের ছেঁড়া বাক্স, শেষ হয়ে যাওয়া বোতল, ভাঙা বোতলের কাচের টুকরো, এই সব দিয়ে নোংরা করে ডিজে বাজিয়ে আহ্লাদে বাড়ি ফিরে যাওয়ার দিন শেষ। অন্তত পুরুলিয়ায় এই কাজ করলে জেলাশাসক জানিয়েছেন, প্রয়োজনে গ্রেফতারও করা হতে পারে। কীভাবে? পথ বাতলে দিয়েছেন জেলাশাসক নিজেই। তিনটি আইনের সাহায্য নিয়েছেন তিনি। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘১৩৩ সি আর পি সি তে আমি সমস্ত বিডিও এবং ওসিদের আদেশ জারি করেছি। পিকনিক স্পট গুলিতে পরিবেশ দূষণ দেখলেই আই পি সির ৮৮ ধারায়  শাস্তি হিসাবে গ্রেপ্তার করা যেতে পারে। এ ছাড়াও প্লাস্টিক ম্যানেজমেন্ট রুল ২০১৮ এবং ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট রুল ২০১৮ অনুযায়ী পিকনিকস্পট গুলিতে বিডিও বা ‘লোকাল বডি’ জরিমানাও করতে পারবে।'

পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়, মুরগুমা জলাধার থেকে শুরু করে পঞ্চকোট পাহাড়, জয়চন্ডী পাহাড়, বড়ন্তি জলাধার প্রভৃতি পর্যটন কেন্দ্র ও  ভ্রমণকেন্দ্রে পিকনিকের মরশুমে পিকনিক পার্টির এই সব নোংরামো নিয়মিত দেখা যায়। যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকে বর্জ্য। তাই বিজ্ঞপ্তি জারি করে পিকনিক স্পটগুলিতে প্লাস্টিক ও থার্মোকল জাতীয় দ্রব্য নিষিদ্ধ  ঘোষণা করল জেলা প্রশাসন।

জেলাশাসক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রতিটি পিকনিক স্পটের ঢোকার মুখে চেক পোস্ট বসানো হবে। পিকনিকযাত্রীদের কাছে থার্মোকল, প্লাস্টিক ইত্যাদি থাকলে তাদের বলা হবে সেসব জমা দিয়ে দিতে। মেনে নিলে ভাল। না মানলে কেড়ে নেওয়া হবে। পরিবর্তে  স্বনির্ভর গোষ্ঠীর তৈরি শালপাতার থালা, মাটির গেলাস ইত্যাদি স্বল্পমূল্যে তাদের দেওয়া হবে। বেশ কিছু স্বনির্ভর গোষ্ঠী পুরুলিয়ায় মেশিনে শালপাতার এই সব সামগ্রী তৈরি করে। এছাড়া পিকনিক স্পটগুলিকে পরিষ্কার রাখার জন্যেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

Developed by DXDasia