
পর্ব ২৭
আজ থেকে প্রায় আশি বছর আগে অন্ধ্রপ্রদেশের কুচিপুড়ি গ্রাম থেকে মাত্র আঠারো বছর বয়সের এক সুদর্শন তরুণ পায়ে হেঁটে যাত্রা করেছিলেন তখনকার মাদ্রাজ (এখন, চেন্নাই) শহরের উদ্দেশে। এতটা পথ পায়ে হেঁটে যাতায়াত তো সহজ ছিল না, কিন্তু সেই তরুণেরও ছিল না কোনও উপায়। সে তখন কপর্দকশূন্য। তবে তার চোখে ছিল স্বপ্ন। সে যে-নাচ শিখেছে, তখনও সেই নাচকে সবাই লোকনৃত্য বলে হেয় করে কিন্তু সে জানতো, অন্তর দিয়ে জানতো যে কুচিপুড়ি আসলেই একটি প্রাচীন এবং শাস্ত্রীয়নৃত্য। এরপর মাদ্রাজে সে ফিল্ম-ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। টাকা আসে। বৈজয়ন্তীমালা বালি থেকে শুরু করে হেমা মালিনী তার কাছে নাচ শেখে। এমনকি তখনকার দিনের এক প্রখ্যাত ফিল্ম-অভিনেত্রী তাকে প্রস্তাব দেয় আরও বেশি টাকা ও বাড়ি-গাড়ির। তবে শর্ত: একমাত্র ওই অভিনেত্রীকেই শেখাতে হবে নাচ। ওই তরুণ মহাচিন্তায় পড়ে যায়। কী বেছে নেবে সে? বৈভবের হাতছানি নাকি নৃত্যশিল্পের প্রসার? সে যখন নিজের মনের গভীরে প্রবেশ করে, নিজেরই আত্মার কাছে জানতে চায় উত্তর আসে একটাই- নাচ! সে আর দুবার ভাবে না। সে আর কাউকেই নাচ শেখায় না ব্যক্তিগতভাবে। সে প্রতিষ্ঠা করে এক নৃত্যপ্রতিষ্ঠান। কুচিপুড়ি আর্ট একাডেমি। আসলে সেই তরুণ আর কেউ নন কুচিপুড়ি নৃত্য-এর বিশ্ববন্দিত গুরু ভেম্পতি চিন্না সত্যম (Vempati Chinna Satyam)।
সপরিবারের শ্রীময়ী ভেম্পতি
ভেম্পতি গুরুজির চেন্নাই-যাত্রার চল্লিশ বছর পর কলকাতার শ্রীময়ী ভেম্পতি (Srimayi Vempati) নাম্নী একটি মেয়েও বহু পথ পেরিয়ে, অনেক ঝড়ঝাপটা সয়ে চেন্নাই পৌঁছেছিল কুচিপুড়ি নৃত্য অধ্যয়ন করবে বলে। বাঙালির অনেক কৃতিত্ব আছে। পৃথিবীতে মনে হয় এমন কোনও বিষয় বা স্থান নেই যাতে বাঙালির প্রবেশ নেই আর সাফল্য নেই। সমগ্র বিশ্বেই কুচিপুড়ি নৃত্যের সঙ্গে কলকাতার সেই শ্রীময়ীর নাম সমার্থক। কুচিপুড়ি আর্ট একাডেমি-র (Kuchipudi Art Academy Chennai) সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা আজ তিরিশ বছরের বেশি। কিন্তু কীভাবে বাসন্তী দেবী কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী কুচিপুড়ি আর্ট একাডেমিতে গিয়ে পৌঁছেছিলেন?
ভেম্পতি গুরুজির চেন্নাই-যাত্রার চল্লিশ বছর পর কলকাতার শ্রীময়ী ভেম্পতিও বহু পথ পেরিয়ে, অনেক ঝড়ঝাপটা সয়ে চেন্নাই পৌঁছেছিলেন কুচিপুড়ি নৃত্য অধ্যয়ন করবে বলে। বাঙালির অনেক কৃতিত্ব আছে। পৃথিবীতে মনে হয় এমন কোনও বিষয় বা স্থান নেই যাতে বাঙালির প্রবেশ নেই আর সাফল্য নেই।
শ্রীময়ীদি হেসে ওঠেন। বলেন, “না, দ্যাখো গুরুজির চেন্নাই যাওয়া আর আমার চেন্নাই যাওয়ার কোনও তুলনা কখনওই আসতে পারে না। আজ আমরা যা, যতটুকু সেটা গুরুজির জন্যই। গুরুজি একা হাতে শুধু একাডেমি স্থাপন করেছিলেন তা নয় কুচিপুড়ি নৃত্যকে শাস্ত্রীয়নৃত্যের তকমাটিও গুরুজিই এনে দিয়েছিলেন বলা চলে। তুমি জানো আজও আমাদের সমস্ত একাডেমিতে ছাত্রছাত্রীরা কুচিপুড়ি শেখে সম্পূর্ণ নিখরচায়! আমি যখন চেন্নাই আসি তখন গুরু গোবিন্দন কুট্টি-থাঙ্কমণি কুট্টির কাছে আমি রীতিমতো ভরতনাট্যম শিখি তাও মনে হয় চার-পাঁচ বছর বয়স থেকে। দেশ-বিদেশ যেখানেই প্রোগ্রাম করতে যেতাম আন্টি আমাকে কাছছাড়া করতেন না। আমাদের গ্রুপে ছিলাম আমি, মোম (মোম গাঙ্গুলি চ্যাটার্জি) আর সিনিয়রদের মধ্যে অভয়দা (পাল), অনিতাদি (মল্লিক), ভেঙ্কিটদা, উমাদি-এরা। তখন কলামণ্ডলম ছিল গড়িয়াহাটের কাছে। এর মধ্যে যামিনী কৃষ্ণমূর্তি একবার কলকাতায় এলেন। আমার মা-বাবার বিশেষত মায়ের একটা অভ্যাস ছিল কলকাতার কোনও ভালো নৃত্যানুষ্ঠান বাদ দিতেন না। তো সেই অনুষ্ঠানে মা যামিনী কৃষ্ণমূর্তির প্লেট-ডান্স মানে থালার ওপর নাচ দেখে অভিভূত হয়ে গিয়েছিলেন। মা-ই তখন আন্টিকে এসে বলেছিলেন যদি আমি কুচিপুড়ি শিখতে পারি। আন্টি অমত করেননি। এবং তখন উমাদি কুচিপুড়ি শিখতে চেন্নাই যেত মাঝে মাঝে আন্টি বললেন ওর সঙ্গে যেতে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত উমাদির অকাল প্রয়াণ হলো। যাই হোক, তারপর মা-বাবাই আমাকে নিয়ে চেন্নাই গেলেন। আসলে তখন আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কোনও শর্ট-কোর্স করার জন্য। ভেম্পতি গুরুজির সঙ্গে দেখাও হলো। উনি শেখাবেন বলে রাজি হলেন। একজন আমার লোকাল-গার্জেন হলেন। কিন্তু ইতিমধ্যে আন্টির ফোন আমার মা-বাবাকে যে উনি তো আমাকে চেন্নাই যেতে বলেননি। কথাটা সত্য। গুরু গোবিন্দন কুট্টি পারমিশন দিয়েছিলেন আসলে। আন্টি তখন লন্ডনে। আন্টি মা-বাবাকে জানালেন আমি তো শ্রীময়ীর অনঙ্গেত্রম (মঞ্চ-প্রবেশ অনুষ্ঠান)-এর কথা ভাবছি। আর আমার মা-বাবার কথা চিন্তা করতে পারবে না আন্টি যেদিন বলেছেন ঠিক পরদিন আমাকে নিয়ে চলে এলেন কলকাতায়! আমি এমনকি পরদিন ক্লাসেও গেলাম। আন্টি তো দেখে অবাক। যাই হোক, আমার অনঙ্গেত্রম হলো। কোথায় বলো তো? মধুসূদন মঞ্চে। তারপর আর কোনও চেন্নাই বা কুচিপুড়ির কথা নেই। আন্টি কিছু বলছেন না। আমিও জিজ্ঞেস করছি না। কিছু মাস পরে অবশ্য আন্টিই জিজ্ঞেস করলেন যে কী হলো? চেন্নাই যাবে না? বললাম আপনি বললে যাবো। আন্টি এবার নিজেই অনুমতি দিলেন। আমি চেন্নাই গেলাম। আমার যাবার এক দু’মাস পরে গুরুজি (গোবিন্দন কুট্টি) এবং আন্টি (থাঙ্কমণি কুট্টি) চেন্নাইতে উপস্থিত হলেন। ভেম্পতি গুরুজিকে আমার কথা জিজ্ঞেস করলেন। গুরুজি বলেছিলেন যে এই মেয়ের স্পার্ক আছে। লেগে থাকলে ও খুব ভালোই করবে। আর্ট একাডেমিতে আমাদের একটা চার বছরের কোর্স আছে। আমি চেন্নাইতে লাগাতার থেকে সেটা কমপ্লিট করলাম।”
নৃত্যরত শ্রীময়ী ভেম্পতি
আমি মুগ্ধ হয়ে শ্রীময়ীদির কথা শুনছি। তারপর জিজ্ঞেস করি মা-বাবাও ওঁর সঙ্গে চেন্নাইতে থাকতেন কি না। কারণ, নব্বইয়ের দশকে বাঙালি একটি মেয়ে একাকী অন্য রাজ্যে, প্রায় ভিন্ন এক সংস্কৃতিতে জীবনসংগ্রামে মত্ত এ তো বড়ো কম কথা নয়! শ্রীময়ীদি আবারও হেসে ওঠেন, “আমার মা-বাবা জানো কপোত-কপোতীর যে প্রেম সেরকম দুটি মানুষ ছিলেন। ভীষণ ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা দেখেছি ওদের একে অপরের প্রতি। তবে মা-বাবার মধ্যে ঝগড়া আর কয়েকদিন কথা বন্ধ হয়েছিল এক সময় একমাত্র আমার জন্য। কেন জানো? আমার নাচ। আসলে আমার মা অপূর্ব নাচ করতে পারতেন। শিখতেন। নন্দিতা দে সরকার বাংলা সৃজনশীল নৃত্যে একটা নাম ছিল এক সময়। মঞ্জুশ্রী চাকী সরকারদের সঙ্গে একসঙ্গে। তারপর মায়ের মামা নরনারায়ণ ঘোষ উদয়শঙ্কর-এর দলে নাচ করতেন। মা তখনকার দিনের বালিগঞ্জের মেয়ে, সাংঘাতিক বিদূষী কিন্তু বিয়ে হলো বীরেন্দ্রমোহন দে সরকারের সঙ্গে বাটানগরে। বাবারা পূর্ব বঙ্গের জমিদার ছিলেন। ভীষণ শৌখিন জীবনযাত্রার মানুষ ছিলেন ওঁরা। ধনীও। কিন্তু বিয়ের পর খুব স্বাভাবিকভাবেই মায়ের নাচ বন্ধ হলো। তবে আমার নাচে কিন্তু মা-বাবা দুজনেই উৎসাহ দিতেন। শুধু তাই নয়, দ্যাখো, ক্লাসিকাল নৃত্য চালিয়ে নিয়ে যাবার কিন্তু একটা ভালোরকম খরচ আছে। আমার বাবা নিরলসভাবে সেটা চালিয়ে গিয়েছিলেন। কোনওদিন অভিযোগ করেননি। শুধুমাত্র আমি যখন স্কুলফাইনাল পাশ করবো তারপর বাবা একটু আপত্তি করেছিলেন নাচ চালিয়ে যাবার ব্যাপারে কারণ তখন সমাজ মারাত্মক মধ্যবিত্ত চেতনার। একটু কেরিয়ারিস্ট মেয়ে হলে তার বিবাহবিচ্ছেদের আশঙ্কা দেখা দিত। আর আমাদের সমাজকে তো চেনোই, বিবাহ বিচ্ছেদের সব দায় মেয়েদের ওপর এসে পড়ে। আর তার ওপর যদি সেই মেয়ে নৃত্যশিল্পী হয় তাহলে তো কথাই নেই। বাবার আপত্তি ছিল চিন্তিত অভিভাবক হিসেবে। কিন্তু মা রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাপারটা পুরো ঘুরে গেলো কখন জানো? আমাদের স্কুলফাইনাল পরীক্ষা হতো দুটো হাফে। আমি ওই পরীক্ষা দিয়ে বাটানগর থেকে রাজ্য সঙ্গীত একাডেমি এসেছিলাম নাচের কম্পিটিশনে আর সে-বার আমিই ফার্স্ট হই। আমার এই অধ্যবসায় বাবাকে গর্বিত করেছিল। পরে বাবাই উদ্দীপিত করেছিল আমাকে কেবল নাচ নিয়েই পড়ে থাকতে। আমি কিন্তু পড়াশোনাতেও ভালো ছিলাম খুব, জানো। আমার ডাক্তার হবার ইচ্ছা ছিল। বাবা বললেন না তুমি নাচেই থাকো।”
এই কাহিনিগুলো আমাদের জানা জরুরি। এটা ভাবার কোনও কারণ নেই যে বাঙালি ছেলেমেয়েরা কোনও কিছু না হতে পেরে নৃত্যশিল্পী হয়। বরং, এমন অনেকেই আছেন যাঁরা আকর্ষণীয় প্রফেশনের ইশারা অগ্রাহ্য করে কেবলমাত্র নৃত্যশিল্পীই হতে চেয়েছিল বলে হতে পেরেছে। শ্রীময়ীদির মা-বাবা যেমন তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে শ্বশুরবাড়িও কি তাই? শ্রীময়ীদি অবাক চোখে আমার দিকে তাকান। বলেন, “আরে, গুরু ভেম্পতি চিন্না সত্যমই তো আমার শ্বশুরমশাই! তিনি একাধারে আমার গুরু, আমার শ্বশুরমশাই এবং আমার শক্তি। কিন্তু সত্যি বলতে কী জানো অনেকেই মনে করে আমার লাভ-ম্যারেজ যেহেতু আমি কুচিপুড়ি আর্ট একাডেমিতে শিখতাম কিন্তু আমার বিয়ে পিওরলি অ্যারেঞ্জড-ম্যারেজ। আমার বাবাকে গুরুজি ফোন করে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তখন আমি চেন্নাই-কলকাতা করছি। কলকাতার কলামন্ডলমে কুচিপুড়ি করাচ্ছি। ছাত্রছাত্রী তৈরি হচ্ছে। বাবা প্রথমেই জিজ্ঞেস করেছিলেন আমি তোমাদের দাদার সঙ্গে মানে ভেঙ্কট ভেম্পতির সঙ্গে প্রেম-টেম করি কি না। আমি আকাশ থেকে পড়েছিলাম। কিন্তু একটা কথা শুনলে তুমি হাসবে বাবা যখন বলেছিলেন আমার ভেঙ্কটকে কেমন লাগে আমি বলেছিলাম কথা কম বলে, গম্ভীর কিন্তু জানো বাবা উনি দেখতে খুব সুন্দর! হাহাহা! যাইহোক, দেখাশোনা হলো। বিয়ে হলো। একটা কথা বলি দক্ষিণ ভারতীয়রা কিন্তু খুব নিউক্লিয়ার পরিবারে বিশ্বাস করে। সকলেই বেশ স্বাধীনচেতা। কিন্তু আমার বাঙালি মা-বাবা শিখিয়েছিলেন তোমার জন্য যেন ওদের সংসার ভাগ না হয়। ভেঙ্কটের কিন্তু তখনই নিজস্ব ফ্ল্যাট-ট্যাট ছিল। তাও আমি ভাবতেই পারিনি কোনওদিন যে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও থাকবো।”
গুরু ভেম্পতি চিন্না সত্যম
ছাত্রী হয়ে শ্রীময়ীদি চেন্নাই যাবার সাত-আট বছরের মধ্যে স্ত্রী-পুত্রবধূ হয়ে চেন্নাই পৌঁছেলেন। কলকাতা কি তবে একজন ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ কুচিপুড়ি শিল্পী হারালো না? শ্রীময়ীদির বক্তব্য অন্যরকম। উনি বলেন, “দ্যাখো একাডেমিতে এসে, ভেম্পতি পরিবারের বউ হয়ে এসে আমার দায়িত্ব নিশ্চিত বেড়েছিল কারণ গুরুজি আমাকে একাডেমির সেক্রেটারি নিযুক্ত করেন। বিদেশি সমস্ত ট্যুরের দায়িত্ব থাকতো। অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচার থেকে আমি টিচার পদে উন্নীত হই। কিন্তু তাও কলকাতা থেকে ডিটাচ হইনি। বছরে বেশ কয়েকমাস কলকাতায় থেকে, নাচ শিখিয়ে একটা ভালো টিম তৈরি করেছিলাম। কিন্তু অসুবিধা শুরু হলো অন্য জায়গায়। আমি শেখাতাম, আমাদের রেকর্ডিং ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দিতাম নিখরচায় প্রায় কিন্তু অদ্ভুতভাবে সেই ছাত্রছাত্রীরা ওইসব রেকর্ডিং অন্যদের বেচতে শুরু করলো। তারপর ছাত্র-টিচার এরকম কিছু লোক শিখতে আসতে শুরু করলো, ক্লাসের ভিডিও করতো, নিজেরা ভালো করে না শিখে ওই ভিডিও দিয়ে অন্যদের শেখাতে শুরু করলো। এগুলো মারাত্মক অপমানজনক! আমি তাই আসতে আসতে সব গুটিয়ে নিলাম। আরও অনেক লোক অনেক কিছুই করেছে, কেউ বয়সে ছোটো কেউ বড়ো কিন্তু আমার কথা একটাই যে আরেকটু ধৈর্য নিয়ে তারা আরেকটু শিখলো না কেন। তবে এটা সত্যি যে কুচিপুড়ি আর্ট একাডেমির দরজা আজও সবার জন্য খোলা। শর্ত একটাই যে ভেম্পতি ঘরানার যে নিয়ম, যে নিষ্ঠা নিয়ে এখনও একাডেমি চলে সেটাকে সম্মান করতে হবে। রক্ষাও করতে হবে।”
হ্যাঁ, তা তো ঠিকই। শ্রীময়ীদি নিজেও তো তাই-ই করছেন। এই প্রসঙ্গটায় আমি আসতে চাইছিলাম না। কিন্তু এতো কথার মাঝে ভেঙ্কটদা বাদ পড়বেন তা কি হয়। শ্রীময়ীদির স্বামী, গুরু ভেম্পতি চিন্না সত্যমের পুত্র ভেঙ্কট ভেম্পতি (Venkat Vempati) সদ্য পরলোকগত হয়েছেন। ভেঙ্কটদা ছিলেন একাডেমির চালিকাশক্তি। “ও থাকতে তো আমাকে কখনও কিছু দেখতে হয়নি। কিন্তু এখন আমাকেই সব দেখতে হচ্ছে। একাডেমি, তার বিভিন্ন শাখা। দ্যাখো আমি তো শুধু গুরুজির পুত্রবধূ নই, আমি ওঁর শিষ্য। সেদিক থেকেও তো এই ধারা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটা দায়িত্ব আমার আছে, তাই না? তবে এটাও জানবে মেয়ে হলে অনেক কাজ, অনেক দায়িত্ব সে তুমি যার স্ত্রী, যারই ছেলের বউই হওনা কেন এই সমাজে অনেক সময় কঠিন হয়ে আসে। এখন অবশ্য আমি একা নই। মেয়ে লক্ষ্মী কামেশ্বরী বা আমার ছেলে আনীশ- এরাও বড়ো হয়ে গেছে। অনেক দায়িত্ব ভাগ করে নিতে চেষ্টা করে। মেয়ে তো ভালোই পারফর্ম করছে চারিদিকে।”
গুরু ভেম্পতি চিন্না সত্যমের সঙ্গে শ্রীময়ী
আর আপনি? আমি শেষ প্রশ্ন করি। শ্রীময়ী ভেম্পতি বলেন, “আমি আবারও পারফর্ম করবো। করছিও। আমার কি থেমে গেলে চলবে? বিদেশের ট্যুরগুলো শুরু হয়ে গেছে। শীঘ্র কলকাতাতেও যাবো। আমাদের দেখেই তো নতুন ছেলেমেয়েরা উদ্বুদ্ধ হবে। আরও নাচে আসবে তারা।”
নিঃসন্দেহে তাই হবে। আবারও কোনও শ্রীময়ী কলকাতা থেকে চেন্নাই যাবে কুচিপুড়ি আর্ট একাডেমিতে নৃত্যশিক্ষার জন্য। যেমন আরও অনেক অনেক বছর আগে গুরু ভেম্পতি চিন্না সত্যম অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে পায়ে হেঁটে পৌঁছেছিলেন সেই শহরেই কেবল নাচের টানে।
______
কলকাতাকেন্দ্রিক শাস্ত্রীয় নৃত্যের চাপা-ইতিহাস ও শিল্পীদের বর্ণময় জীবন নিয়ে ভাস্কর মজুমদারের কলামে চলছে বঙ্গদর্শন.কম-এর ধারাবাহিক – নাচে জন্ম নাচে মৃত্যু। প্রতি শুক্রবার।

