
গদাই লস্করি চাল এখন কত করে কেজি?
সন্ত্রাসবাদীরা যে শব্দটা আমাদের ভোকাবুলারি থেকে কার্যত ছিনিয়ে নিয়েছে তার নাম ‘লস্কর’।
লস্কর শব্দটা আমরা আজকাল প্রায় ব্যবহারই করি না, যদি না লস্কর-ই-তৈবা নতুন করে কোনও সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনা ঘটায়। লস্কর-ই-তৈবার অর্থ মঙ্গলের সৈন্য, ন্যায়নিষ্ঠার সৈন্য, অথবা নিষ্পাপ সৈন্য। যদিও ১৯৯০ সালে আফগানিস্তানে জন্ম নেওয়া পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত এই সংগঠনের প্রধান কাজই হল ধর্মের নামে নিষ্পাপ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা।
অতীতে কিন্তু লস্কর শব্দ নিয়মিত এমনকী কবিতায়ও ব্যবহার হত। যেমন ১৬০৩ সালে আকবরের বঙ্গদেশ জয়ের জন্য সেনা বাহিনী পাঠানোর কথা লেখা আছে ভারতচন্দ্রের কবিতায়, ‘আগে পাছে দুই পাশে দু’সারি লস্কর। চলেন মানসিংহ যশোহর নগর’।।
লস্কর মানে ফৌজ, সেনা। কথাটা ফারসি। বাংলায় অবশ্য আর একটা কথা আছে লস্কর নিয়ে। সেটা হল, গদাই লস্করি চাল। মোটেই ভালো অর্থে ব্যবহার হয় না। গদা, হরিচরণ যার অর্থ বলেছেন, লৌহময় অস্ত্র, যাহা মেঘবৎ শব্দ করে, সেই ভারি বস্তুটি নিয়ে তো আর দৌড়ানো যায় না, একটু মৃদুমন্দই হয় সেই যোদ্ধার গতি, সেই চলনকে বলা হত গদাই লস্করি চাল। আর গদাবিহীন যে ব্যক্তির ওই গদাই লস্করি চাল রয়েছে, তার অর্থ, কাজে উদ্যমহীনতা, কুঁড়েমি। যদিও ‘লস্করি চাল’-এর অর্থ হল, টগবগ করে হাঁটা, অভিধানে যার আর্থ বলা হয়েছে, লস্করের ন্যায় নিয়ন্ত্রিত চলন।
লস্কর শব্দটা আজকাল লেখালেখিতে তেমন না থাকলেও লস্কর এক্সপ্রেস নামে আমাদের একটি ট্রেন কিন্তু চালু রয়েছে বহু কাল ধরে। সেটা আগ্রা ক্যান্টনমেন্ট থেকে ছেড়ে ১৯টি স্টেশন পার হয়ে, ১৩৩৪ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে পৌঁছয় লোকমান্য তিলক টার্মিনাস স্টেশনে। তা ছাড়া, ‘কই হে তোমার লোক লস্কর কই’ এমন কথায় যে মাঝে মধ্যে কানে আসে না, তা জোর দিয়ে বলা যাবে না।
শেষ করি এক ছাত্রের পরীক্ষার খাতা দিয়ে। আমার এক শিক্ষক বন্ধুর কাছে গল্পটা শোনা। ভালো স্কুলের ছাত্র। শহরে থাকে। চাল-ডালের খবর তেমন জানা নেই। সে তার খাতায় ‘গদাই লস্করি চাল’ নিয়ে একটা বাক্য রচনা করতে গিয়ে লিখেছিল, এ বছর প্রবল বর্ষায় শস্যের বিপুল ক্ষতি হয়েছে, গদাই লস্করি চালের দাম এখন ৬০ টাকা কেজি।
