
দু বার জাতীয় স্তরে সোনা। এবার লক্ষ্য চীন থেকে পদক আনা। অর্থের অভাবে এখানেই কী থেমে যাবে শিলিগুড়ির দীপ্তি পালের দৌড়
মাত্র দশ বছর বয়সে ক্লাস ফাইভে পড়ার সময় তাঁর দৌড় শুরু। বাহান্ন বছর বয়সেও তিনি দৌড়ে চলেছেন। শিলিগুড়ি জংশন বিআই কলোনির বাসিন্দা দীপ্তি পাল। ২০১৬-য় মহীশূর আর চলতি বছরে হায়দরাবাদের জাতীয় ইভেন্ট থেকে জিতেছেন সোনা। এখন পাখির চোখ চীনের আন্তর্জাতিক মিট থেকে পদক জয়। কিন্তু বাদ সাধছে দারিদ্র্য।
ভাঙাচোরা টিনের ছাউনি দেওয়া ঘর। বর্ষায় ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ে নষ্ট হয়েছে বহু সার্টিফিকেট। দৌড়ের কারণেই স্বামীর সঙ্গে বনিবনা হয়নি। স্বামী ছেড়ে চলে যাওয়ায় দুই ছেলেকে বড় ক’রে তোলার জন্য বাড়ি বাড়ি ডিম ফেরি করেছেন। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই কঠিন হ’লেও একবারের জন্যও ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবেননি স্বপ্নের দৌড়। স্কুল জীবন থেকে শুরু ক’রে এখনও পর্যন্ত জিতেছেন অজস্র মেডেল, কাপ, মানপত্র। স্থানীয় সমাজসেবী কিছু আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। সংবর্ধনাও পেয়েছেন স্থানীয় ক্লাব এবং মেলা কমিটির কাছ থেকে। কিন্তু জাতীয় স্তরে সাফল্য পেলেও এখনও মেলেনি সেরকম সরকারি বা বেসরকারি সাহায্য। তাই গত বছর অংশ নিতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক মিটে।
দীপ্তি পাল এখন চোয়াল শক্ত ক’রে নামছেন অনুশীলনে। চীন থেকে পদক তাঁকে আনতে হবেই। কিন্তু টাকার অভাবে এখানেই কী থেমে যাবে সোনার মেয়ের দৌড়?
