হ্যাম রেডিওর দৌলতে পঁচিশ বছর পর ছেলে ফিরে পেল বাবাকে

কাকদ্বীপ হাসপাতালে বাবার খোঁজ এনে দিল হ্যাম রেডিও

মাসখানেক আগে আসা একটি ফোন সব ওলটপালট করে দেয় রাজারামের পরিবারের। প্রায় ২৫ বছর পর খোঁজ মিলল মানসিক ভারসাম্যহীন রাজারামের। কাকদ্বীপ হাসপাতালে খোঁজ মেলে রাজারামের। সেই খবর পৌঁছয় স্থানীয় থানা মারফত পরিবারের কাছে। সৌজন্যে হ্যাম রেডিও ক্লাব। গত বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্র থেকে বাবার খোঁজে ছুটে আসেন ছেলে। ২৫ বছর পর বাবা ও ছেলের মিলন দেখে অবাক গোটা বাংলা।

হ্যাম রেডিও কী? অ্যামেচার রেডিও বা হ্যাম রেডিও হচ্ছে একটি বিশ্বব্যাপী কমিউনিটি, যার মাধ্যমে সারা বিশ্বের প্রায় ৩ মিলিয়ন ব্যক্তি নিজেদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। ২০০৪ সালের জরিপ অনুযায়ী আমেরিকায় ৭ লক্ষ, জাপানে ৬ লক্ষ, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার, থাইল্যান্ডে ১ লক্ষ ৪০ হাজার, কানাডায় ৫৭ হাজার, জার্মানিতে ৭০ হাজার, ইংল্যান্ডে ৬০ হাজার, সুইডেনে ১১ হাজার, নরওয়েতে ৫ হাজার এবং আমাদের ভারতে ১৬ হাজারের বেশি হ্যাম এই বিষয়ে যথেষ্ট এগিয়ে আছে। অ্যামেচার রেডিও কিন্তু শুধু কথা বলার জন্যই নয়, দুর্যোগের সময়েও অ্যামেচার রেডিও খুব কাজে লাগে। কারণ তখন ফোন নেটওয়ার্ক কাজ করে না। এই হ্যাম রেডিওই ফিরিয়ে দিল বাবা-ছেলের মিলন।

শেষবার যখন ছেলেকে বাবা দেখেছিলেন, তখন ছেলের বয়স ছিল নয় বছর। গত ২৬ অক্টোবর সাগরের কপিলমুনি মন্দিরের পাশে অসুস্থ এক প্রৌঢ় পড়েছিলেন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কাকদ্বীপ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সে সময় রোগীর নাম-ঠিকানা কিছুই পাওয়া যায়নি। ধীরে ধীরে খানিক সুস্থ হয়ে ওঠেন প্রৌঢ়। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর পরিচয় জানতে যোগাযোগ করে হ্যাম রেডিওর সঙ্গে। হ্যাম রেডিও ক্লাবের সদস্যরা প্রৌঢ়ের পরিচয় খুঁজে বের করেন। হাসপাতালে বাবাকে দেখতে আসেন ছেলে মহেশ বাগাড়িয়া। অনেকক্ষণ ফ্যাল ফ্যাল করে বাবার চোখের দিকে চেয়ে থাকেন। বাবার মুখটা কি ঠিকঠাক মেলাতে পারছিলেন? বাবা ছিলেন বনদপ্তরের কর্মী। থানায় মিসিং ডায়েরি করা হয়। কিন্তু খোঁজ মেলেনি। তারপর বাবাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। পেনশনও চালু হয়ে যায়। সেই বাবাকেই যখন এই হ্যাম রেডিও ফিরিয়ে দেয় ছেলের কাছে, তখন এই রেডিও ক্লাবকে তো স্যালুট জানাতেই হয়। বাবা-ছেলের এই অমোঘ মিলন বেঁচে থাক।

Developed by DXDasia