শোলার অভাবে বিপদে শিল্পীরা

দাম বেড়েছে থার্মোকল ও চুমকি, জরিরও

উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গে বন্যার জেরে শোলা চাষ মাঠে মারা গিয়েছে। ফলে পুজোর মুখে গভীর চিন্তায় উত্তরবঙ্গের শোলাশিল্পীরা। কেননা, এই সময় মা দুর্গার অলঙ্কার সহ বিভিন্ন সাজসজ্জার কাজ নিয়ে মেতে ওঠেন তাঁরা। কিন্তু শোলা না থাকায় কী দিয়ে মাকে সাজাবেন তা নিয়ে তাঁরা চিন্তায় পড়েছেন। এই অবস্থায় শিলিগুড়ি আশিঘর মোড় লাগোয়া পাইপ লাইন চয়নপাড়ার শোলাশিল্পী বাচ্চু মালাকার থার্মোকল দিয়ে দিয়ে দেবী সাজানোর কাজে নেমে পড়েছেন।

পুজোর আর একমাসও বাকি নেই। বিভিন্ন স্থানে পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে পুরোদমে। কিন্তু দক্ষিণবঙ্গে কিছুদিন আগে বন্যা হয়। তার জের কাটতে না কাটতেই বন্যায় ভাসে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা। এখনও রেল যোগাযোগ উত্তরবঙ্গে স্বাভাবিক হয়নি। এই অবস্থায় পুজোর প্রস্তুতিতে সমস্যায় পড়েছেন অনেকেই। যেমন বাচ্চু মালাকার। তাঁর বাবা যতীন মালাকার ১৪ বছর আগে মারা যান। তিনিও শোলার পুজো সাজের কাজ করতেন। বাবার মৃত্যুর পর বাচ্চুবাবু বংশ পরম্পরার কাজ ধরে রাখতেই এই কাজ করছেন। তিনি বললেন, এই কাজে তেমন পয়সা নেই। তারপর শোলা পাওয়া যায় না। সরকারি কোনও সহায়তা নেই। ফলে এই ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প হারিয়ে যাচ্ছে। তবুও বংশ পরম্পরার কাজ ধরে রাখতেই তাঁরা এই কাজ করছেন। বাচ্চুবাবুর সঙ্গে এই সময় তাঁর কাজে স্ত্রী ও মেয়ে সহযোগিতা করছেন। বন্যার জন্য শোলার দাম দুই তিন গুণ বেড়েছে। দাম বেড়েছে থার্মোকল ও চুমকি, জরিরও। বাচ্চু তৈরি করছেন মুকুট, বাজু, কানের দুল, মালা, ফেনি, গলার হার সহ অন্য সামগ্রী। একটি বিশেষ অর্ডারে কুড়ি ফুট উচ্চতার দুর্গা প্রতিমার জন্যও বাচ্চুবাবু ডাকের সাজের সব কাজ করে দিয়েছেন। শিলিগুড়ি কুমোরটুলির অধিকাংশ মৃৎশিল্পী দুর্গার সব সাজসজ্জা বাচ্চুবাবুর কাছ থেকে নিচ্ছেন। এখন রীতিমত রাত জেগে কাজ।

পরিশ্রম অনুযায়ী তেমন পয়সা না থাকলেও পুজোয় ঘরের কিছু খরচা এই কাজ থেকেই আসে, জানান বাচ্চু মালাকার। তাঁর আক্ষেপ, অনেক কষ্ট স্বীকার করেও এই কাজ করে যাচ্ছেন তাঁরা। কিন্তু সরকারি সহায়তা না থাকলে বা কেউ নজর না দিলে বাংলার এই শিল্প ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে।

Developed by DXDasia