মুকুন্দ দাসের স্মৃতিধন্য কালীবাড়ি

পরাধীন ভারতে দেশের জন্য গান গাইতে শিলিগুড়ি আসতেন তিনি

চারণ কবি মুকুন্দ দাসের স্মৃতি বিজড়িত শিলিগুড়ির আনন্দময়ী কালীবাড়িতে শুরু হয়েছে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি। রথযাত্রার দিন থেকে প্রতিদিন মা দুর্গার কাঠামো পুজো করা এখানকার ঐতিহ্য। পুজো আসার আগে দুর্গামন্দিরের ভিত্তি স্থাপন উপলক্ষে আগামী ৩ জুলাই বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে মন্দির চত্বরে। আর তারই অঙ্গ হিসাবে শিব, দুর্গা, লক্ষ্মীর ওপর গীতিআলেখ্য পরিবেশন করার প্রস্তুতি নিয়েছে শিলিগুড়ি সুভাষপল্লীর ‘ফুলেশ্বরী নন্দিনী’র শিল্পীরা।  

পরাধীন ভারতে দেশের জন্য গান গাইতে শিলিগুড়ি আসতেন চারণ কবি মকুন্দ দাস। শিলিগুড়িতে সেই সময় তিনি গান গেয়ে একটি মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ১৯২৫ সালে তিনি প্রথম শিলিগুড়ি আসেন। সেই সময়ই তিনি শিলিগুড়ি ডিআই ফান্ড মার্কেট এলাকায় ‘মা আনন্দময়ী কালীবাড়ি’ নাম দিয়ে কালীবাড়ি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তাঁরই প্রয়াসে কাশীপুর থেকে কালী বিগ্রহ তৈরি করে এনে ১৯২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আনন্দময়ী কালীবাড়ি প্রতিষ্ঠা হয়। সেই কালীবাড়িকে সরকার হেরিটেজ হিসাবেও ঘোষণা করেছে। সেখানকার দুর্গাপুজো এবার ৮৬ বছরে পা দিল। মন্দির কমিটির সম্পাদক ভাস্কর বিশ্বাস জানিয়েছেন, আগামী ৩ জুলাই তাঁরা সেই মন্দির চত্বরে অনুষ্ঠান করছেন। সেখানে তারা চার জন কৃতী প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রীকে সংবর্ধনা দেবেন। তার সঙ্গে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। শিলিগুড়ি ফুলেশ্বরী নন্দিনীর সম্পাদিকা কণিকা দাস জানান, সেই অনুষ্ঠানে শিব, দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতীর ওপর বন্দনা করা হবে। সেই গীতিআলেখ্য-র পর বিভিন্ন শিল্পীর অনুষ্ঠান। এখন তারই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

Developed by DXDasia