
উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের জন্মের ২১৯ বছর পরে জন্ম তাঁর
জন ট্যালবট শেক্সপিয়ার। মহাকবি উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের বংশধর। ব্রিটেনে জন্মালেও তাঁর ধর্মকর্ম ঔপনিবেশিক কলকাতায়। মৃত্যুও এই শহরে। পার্ক স্ট্রিটের দক্ষিণে কবরখানায় তিনি সমাধিস্থ। জীবিকার সন্ধানে বাংলায় এসেছিলেন ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকরি নিয়ে (বলা বাহুল্য, ফরাসি, পর্তুগিজ ও ওলন্দাজরাও উপনিবেশবাদের প্রস্তুতিপর্বে পৃথক ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গড়েছিল)। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে এসেছিলেন। তাঁর জন্ম ১৭৮৩ সালে। উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের জন্মের ২১৯ বছর পরে। বাবার নামও জন, মা’র নাম মেরি। মাত্র ৪২ বছর বেঁচেছিলেন। বিয়ে করেছিলেন সিলেটে জেলা সমাহর্তা (কালেক্টর) উইলিয়াম মেকপিস থ্যাকারের বড় মেয়ে এমিলি অ্যামেলিয়াকে। জন ট্যালবটের বয়স তখন ২০। আবার থ্যাকারের ষষ্ঠ পুত্র রেভারেন্ড ফ্র্যান্সিস জন ট্যালবটের বোন ম্যারিয়ানকে বিয়ে করেছিলেন।
জন ট্যালবটকে কোম্পানিতে চাকরি দিয়েছিলেন রিচমন্ড মেকপিস থ্যাকারে। তিনি ছিলেন বীরভূমের জেলা সমাহর্তা। জনকে তাঁর সহকারী পদে নিয়োগ করেছিলেন। জন পরে বিয়ে করেন রিচমন্ডেরই ভগিনীকে। রিচমন্ড বাংলার রাজস্ব সচিব পদে উন্নীত হয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র ৩৪ বছর বেঁচেছিলেন। তাঁর পুত্র আরেক উইলিয়াম মেকপিস থ্যাকারে। উত্তরকালে বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক। তাঁর ‘টিমবাক্টু’, লাক অফ ব্যারি লিন্ডন প্রভৃতি উপন্যাস দাগ কেটেছিল পাঠকের মনে। তাঁর জন্মস্থান কলকাতায়, ১৮১১ সালে। ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে(এখন নাম মির্জা গালিব স্ট্রিট)। সেখানে এখন আর্মেনিয়ান স্কুল। প্রবেশমুখে শ্বেতপাথরের ফলকে লেখা আছে, এই বাড়িতে জন্মেছিলেন কবি-ঔপন্যাসিক উইলিয়াম মেকপিস থ্যাকারে।
জন ট্যালবটের শ্বশুর অবশ্য কুখ্যাত ছিলেন। সিলেটে থাকাকালীন হাতির পিঠে শিকার করে প্রচুর সোনা দানা লুঠ করেছিলেন। কোম্পানির কর্তারা আঁচ পেয়ে তাঁকে অপসারিত করেছিলেন। জন ট্যালবট পদবির বানান লিখতেন Shakespeare নয়, Shakespear।
