বিনে পয়সায় দোকান থেকে পছন্দমতো জামা-কাপড় নিয়ে যান দুঃস্থরা

বাঁশবেড়িয়ার এক স্কুল শিক্ষক এবং এক চা বিক্রেতার উদ্যোগ

বাঁশবেড়িয়ায় হংসেশ্বরী মন্দিরের কাছে একটি চায়ের দোকান। অনেক জামাকাপড় সাজানো আছে তাতে। টিনের চাল ঘেরা এই ভাঙাচোরা দোকানই আশেপাশের বিভিন্ন গ্রামের দুঃস্থদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। 

স্থানীয় বাসিন্দারা এখানে নিজেদের অতিরিক্ত পোশাক-পরিচ্ছদ রেখে যান। পুরোনো হলেও সেসব জামাকাপড়ের মান যথেষ্ট ভালোই। সেগুলোকে ধুয়ে ইস্ত্রি করে দোকানে সাজিয়ে রাখা থাকে। গরিব মানুষেরা এসে এই দোকান থেকে পছন্দমতো জামাকাপড় নিয়ে যেতে পারেন। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। দোকানে লেখা আছে, “যার অতিরিক্ত কাপড় দিয়ে যান”, “যার প্রয়োজন নিয়ে যান”, “এখান থেকে পোশাক নিয়ে কেউ বিক্রয় করিবেন না”, “সব একা নেবেন না, সকলকে নিতে দেন” ইত্যাদি বিজ্ঞপ্তি।

বছর দুয়েক আগে কুন্তীঘাট দিলীপ কুমার হাইস্কুলের শিক্ষক শুভেন্দু দত্ত গরিব মানুষদের হাতে বস্ত্র তুলে দেওয়ার উদ্যোগ শুরু করেছিলেন। মাস্টারমশাইকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিল তাঁর ছাত্ররাও। এবছর পুজোর আগে হংসেশ্বরী মন্দিরের পাশে চায়ের দোকানের একটা অংশ শুভেন্দুবাবুকে ব্যবহার করতে দেন চা বিক্রেতা চিত্তরঞ্জন বর। সেই থেকেই স্থানীয় মানুষদের সাহায্যে এই দু’জন বিনে পয়সার কাপড়ের দোকানটি চালিয়ে আসছেন। দুঃস্থ মানুষকে পোশাক বিলিয়ে দিয়েই আনন্দ পান তাঁরা। 
 

Developed by DXDasia