
এবছর সাঁওতালি ভাষায় সাহিত্য অ্যাকাডেমি পেলেন শ্যাম বেসরা
স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়নের জন্য উচ্ছেদ এবং উচ্ছেদ বিরোধী প্রতিবাদ আন্দোলন নিয়ে উপন্যাস লিখে এবছর সাঁওতালি ভাষায় সাহিত্য অ্যাকাডেমি পেলেন শ্যাম বেসরা। উপন্যাসের নাম ‘মারম’। গল্প, উপন্যাস মিলিয়ে ইতিমধ্যেই শ্যাম বেসরার ৬টি বই প্রকাশিত হয়েছে। শ্যাম থাকেন চিত্তরঞ্জনের কাছে। চাকরি করেন পূর্ব রেলে চিফ টিকিট ইন্সপেক্টরের পদে।
মিহিজাম থেকে টেলিফোনে শ্যাম জানালেন, ৬০-এর দশকে চিত্তরঞ্জনে যখন রেল ইঞ্জিন কারখানার কাজ শুরু হয়, তখন সেখানে ছিল সাঁওতালদের গ্রাম। মোট ১২টি গ্রাম থেকে আদিবাসীদের উচ্ছেদ করা হয়েছিল। প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে ৬ জন সাঁওতাল মারা গিয়েছিলেন। এরপর ম্যাসাঞ্জর ড্যাম। এই ড্যাম নির্মাণ করতে গিয়েও বহু গ্রাম থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করা হয়েছিল। এখানে গ্রামের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। শ্যামের উপন্যাসে এসেছে এই দুই উন্নয়ন প্রকল্প এবং তার জন্য আদিবাসীদের উচ্ছেদের কথা। তাঁদের সংগ্রাম, দুঃখ, কান্না। এই বই লিখতে তাঁকে বেশ কিছু দিন ধরে গবেষণা করতে হয়েছিল তথ্য সংগ্রহের জন্য, জানালেন শ্যাম। প্রসঙ্গত, ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ অন হিউম্যান রাইটস ইন ইন্ডিয়া অ্যান্ড ইউনাইটেড নেশনস’-এর গবেষণা রিপোর্ট (২০১২) অনুসারে, ভারতে স্বাধীনতার পর থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছ’কোটি মানুষকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এই উচ্ছেদ হওয়া মানুষের ৪০ শতাংশ আদিবাসী, ৪০ শতাংশ দলিত আর বাকিটা গরিব গ্রামের মানুষ। যদিও আমাদের সাহিত্যে ব্যাপারটা সে ভাবে মোটেই আসেনি। এর অনেক কারণ থাকতে পারে। তবে একটি কারণ নিশ্চয়, সাহিত্য সৃষ্টির কলম এখনও অনেকটাই উচ্চ বর্ণের হাতে। এই উন্নয়নের সুফল যাদের কাছে প্রথমে পৌঁছায়। শ্যামের কোনও বই এখনও বাংলায় অনুবাদ হয়নি। আশা করা যায় এর পর হবে।
