আবার সংস্কৃত চর্চার জোয়ার চৈতন্যের ভূমিতে

নবদ্বীপে চালু হচ্ছে সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস, থাকছে ভারততত্ত্ব এবং প্রাচ্যতত্ত্ব নিয়ে গবেষণার ব্যবস্থা…

নবদ্বীপ একটা সময়ে ছিল গোটা বাংলার সাংস্কৃতিক রাজধানী। ন্যায়, সাংখ্য, বেদান্ত, কাব্য, অলঙ্কার চর্চায় চৈতন্যদেবের জন্ম ও প্রাথমিক কর্মস্থানের খ্যাতি ছিল গোটা ভারতে। সেসব এখন অতীত। তবে সেই গৌরব আবার ফিরিয়ে আনতে নবদ্বীপে সংস্কৃত গবেষণাকেন্দ্র স্থাপনে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। গবেষণাকেন্দ্রের বাড়ি তৈরির কাজ শেষ হয়েছে সম্প্রতি। জানা গেছে, ফেব্রুয়ারি মাসে উদ্বোধন হতে পারে এই শিক্ষায়তনের।

এই গবেষণাকেন্দ্র চালু হলে তা সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহৃত হবে। নবদ্বীপে ভাগীরথী নদীর কাছে ফরেস্ট ডাঙায় বালির চরে তৈরি হয়েছে এর ৬ তলা বাড়ি। গবেষণাকেন্দ্রটি হবে আবাসিক। সংস্কৃতের পাশাপাশি ভারততত্ত্ব এবং প্রাচ্যতত্ত্ব নিয়েও গবেষণার সুযোগ থাকবে। অদূর ভবিষ্যতে নবদ্বীপের ওপর একটি গবেষণাকেন্দ্র তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারের ব্যবস্থাও থাকছে এখানে। সংস্কৃত শিক্ষার প্রসারে রাজ্য সরকারের উদ্যোগ ইতিমধ্যেই বিদ্বজ্জনের প্রশংসা লাভ করেছে। রাজ্যের সমস্ত টোলকে সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাডি সেন্টারের অধীনে রাখা এবং টোলগুলির সিলেবাস বদলে সময়োপযোগী করার জন্য ২৬ কোটি টাকা আগেই বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। নবদ্বীপে সংস্কৃত গবেষণাকেন্দ্র চালু হলে পশ্চিমবঙ্গে প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস ও কৃষ্টি চর্চার গৌরবে নতুন পালক যোগ হবে বলেই মনে করছেন বিদ্যানুরাগীরা।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নবদ্বীপের সংস্কৃত গবেষণাকেন্দ্রে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে মানুষের সমস্যা লাঘব করার জন্য কৃষ্ণনগর থেকে গৌরাঙ্গ সেতু হয়ে নবদ্বীপ যাওয়ার রাস্তাটিরও সংস্কার শুরু হয়েছে। এই রাস্তা গবেষণাকেন্দ্র থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে হলেও এটাই গোটা দেশের সঙ্গে গবেষণাকেন্দ্রের পরিবহন যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম।

Developed by DXDasia