সৌদি আরবকে মিশরের দ্বীপ দান- বিক্ষোভে উত্তাল মিশর

সানাফির এবং টিরান- লোহিত সাগরের দুই দ্বীপএর অধিকারের লড়াই

সানাফির এবং টিরান। লোহিত সাগরের এই দুই দ্বীপ নিয়ে উত্তাল মিশর।দুটো দ্বীপই খুব কাছাকাছি। দুই দ্বীপের মাঝের দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটার।

বাদশাহ সালমানের গত বছরের মিশর সফরের সময় লোহিত সাগরের এই দুটো দ্বীপ সৌদি আরবকে দেয়ার ব্যাপারে  চুক্তি হয়েছিল। সেই মতো গত সপ্তাহে মিশরের সংসদ ঐ চুক্তি অনুমোদন করেছে।

তার পর সেটি অনুমোদন করেছেন মিশরের সাবেক সেনাপ্রধান এবং প্রেসিডেন্ট আব্দুল ফাত্তাহ আল সিসি।

এসব জানাজানি হতেই এই চুক্তি নিয়ে মিশরে বিক্ষোভ দানা বাঁধছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট সিসি সৌদি সাহায্যের লোভে দেশের দ্বীপ বেচে দিচ্ছেন। শুরু হয়েছে আইনি লড়াইও।

মিশরের একটি আদালত সৌদি আরবের কাছে দ্বীপ হস্তান্তরের চুক্তি বাতিল ঘোষণা করে রায় দিয়েছে। তবে অন্য আরেকটি আদালত চুক্তিকে বৈধ বলেও রায় দিয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন মিশরের সাংবিধানিক আদালতের কাছে। তারা এখনো কোনো রায় দেয়নি।

প্রেসিডেন্ট সিসি বলছেন সৌদি আরবই দ্বীপ দুটোর প্রকৃত মালিক। ১৯৫০ এ সৌদিরা তাদের প্রতিরক্ষায় মিশরকে ঐ দুই দ্বীপে সৈন্য মোতায়েনের অনুমতি দিয়েছিলো। এখন শুধু সৌদি আরবের দ্বীপ তিনি ফিরিয়ে দিচ্ছেন মাত্র। কিন্তু আম জনতা এই যুক্তি মানতে নারাজ।
বিরোধীরা বলছেন, যেহেতু ২০১৩ সালে মোহাম্মদ মোরসির সরকারকে সেনা অভ্যুত্থানে উৎখাতের পর থেকে সৌদি আরব জেনারেল সিসিকে সমর্থন করে আসছে, সে কারণে সৌদিদের খুশি করতে চাইছেন প্রেসিডেন্ট।

সানাফির এবং টিরান নামে এই দুই দ্বীপ দুটো খুব কাছাকাছি।

টিরানের অবস্থান আকাবা উপসাগরের ঠিক মুখে। এলাকাটি  রণকৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। লোহিত সাগরে ঢোকার জন্য ইসরায়েল এটি ব্যবহার করে। অসামরিক লোকজন দ্বীপ দুটোতে বসবাস করেনা। মিশরের সৈন্য এবং বহুজাতিক শান্তিরক্ষীরাই এখানে মোতায়েন।

ইসরায়েল ১৯৫৬ এবং ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে দুবারই দ্বীপ দুটো দখল করে নিয়েছিল। পরে তা আবার মিশরকে ফিরিয়েও দেয়।

Developed by DXDasia