June 29, 2017 | 7:17 PM

সুরের ঝর্ণাকে বিদায় জানিয়ে প্রয়াত সবিতা চৌধুরী

সবিতা চলে গেলেও সুরের ঝর্ণার বৌ কথা কও পাখি বাংলা সঙ্গীতে রোজ ডাকবে

কিংবদন্তী শিল্পী সবিতা চৌধুরী গত রাতে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।

খুব ঝগড়া হত স্বামী স্ত্রীর মধ্যে। কে আগে যাবেন। সবিতার মনে হত, সলিল জানতেন তিনিই আগে। তাই হয়ত এই গানটি লিখেছিলেন, যার এক নতুন অর্থ সবিতার কাছে ধরা পড়ত। “তুমি কি কখনও সেই গান শোন.. যে গান কানেতে শোনা যায় না কখনও, যে গানের কোনও নেই স্বরলিপি…’’  
আর আজ সবিতাও চলে গেলেন। সলিল সঙ্গীতের একটা যুগ শেষ হল। সলিল সঙ্গীতের পতাকা দিয়ে গেলেন কন্যা অন্তরাকে।

সবিতা চৌধুরী, তার আগে সবিতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জন্ম ১৯৪৫। বাংলার বাইরে থেকেছেন সবিতা চৌধুরী। বাইরেই বড় হয়েছেন। বাংলা তাই তেমন ভালো জানতেন না। কথাবার্তা বলতে পারতেন। কিন্তু ওটুকুই। তাঁকে বাংলাভাষার সঙ্গে পরিচয় করিয়েছিলেন সলিল চৌধুরী। শুধু তাই নয়। সবিতা চৌধুরীর গান তোলা থেকে প্র্যাকটিস, সবই হত রান্না করতে করতে। সলিল চৌধুরী বলতেন, ভালো শিল্পী হতে গেলে ভালো রান্না জানতে হবে। তাই একদিকে সবিতা রান্না করতেন, অন্যদিকে কম্পোজিশনে বসতেন সলিল। এভাবেই চলত গান বাঁধা। তারপর সলিল চলে গেলেন, হল মা মেয়ের সংসার। আরও ছেলে মেয়ে আছে যদিও। সলিল-সবিতার চার সন্তান, অন্তরা, সঞ্চারী, সঞ্জয় ও ববি। কিন্তু অন্তরা সবিতা দুই শিল্পী আবার দুই বান্ধবী যেন।

জানুয়ারিতে সবিতাদেবীর ফুসফুস ও থাইরয়েডে ক্যান্সার ধরা পড়ে। প্রথমে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় মুম্বই। মে মাসে তাঁকে কলকাতায় আনা হয়। তাঁর ইচ্ছেতে তারপর থেকে বাড়িতেই চলছিল চিকিৎসা। ক্যানসারে বড্ড কষ্ট পাচ্ছিলেন সবিতা চৌধুরী। আজ চলে গেলেন অনন্তধামে।

আসর জমানো গান মানেই সবিতা চৌধুরী। বড্ড কড়া গানের শিক্ষিকাও ছিলেন। সবিতা চলে গেলেও সুরের ঝর্ণার বৌ কথা কও পাখি বাংলা সঙ্গীতে রোজ ডাকবে, তিনি নেই, কিন্তু তাঁর গান গুলো যে অমর!

Written by
Developed by DXDasia