পেট থেকে রড বের করে রোগীকে প্রাণ ফিরিয়ে দিল এম আর বাঙুর

দেড় ফুট লম্বা, জং ধরা রড বের করা হল ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচারে

পেটে ঢুকে গেছে দেড় ফুট লম্বা লোহার চেয়ারের রড। শুধু ঢুকে যাওয়া নয়, একেবারে এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়েছে বলা যায়। বেহালার বাসিন্দা শ্যামল জানাকে অত্যন্ত আশংকাজনক অবস্থায় এমআর বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন তাঁর পরিজনেরা। ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার করে পেট থেকে সেই লোহার রড বের করলেন এমআর বাঙুর হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

সকাল নটা নাগাদ যখন কারখানার কর্মী শ্যামল জানাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, তখন তাঁর পেটের ডানদিক থেকে বাঁদিক পর্যন্ত গেঁথে বাইরে বেরিয়ে এসেছে একটি জংধরা লোহার রড। সঙ্গে গুরুতর মাথার চোট। রক্তপাতও হচ্ছিল প্রবল। এমন রোগীকে চিকিৎসার পর্যাপ্ত পরিকাঠামো নেই এমআর বাঙুর হাসপাতালে। সিটিভিএস, প্লাস্টিক সার্জেন বিশেষজ্ঞও নেই। কিন্তু, ওই অবস্থায় রোগীকে অন্যত্র পাঠাতে বলা মানে তাঁকে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া। ফলে, ঝুঁকি নিয়ে অস্ত্রোপচারেরই সিদ্ধান্ত নেয় হাসপাতাল-কর্তৃপক্ষ।

অস্ত্রোপচার শুরু আগে ইলেকট্রিক গ্যাস-কাটার দিয়ে পেটে গেঁথে থাকা চেয়ারের বাকি অংশ কেটে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। তারপর, শল্য চিকিৎসক জয়দীপ রায় এবং অস্থিশল্য বিশেষজ্ঞ জগৎজ্যোতি ধাঁড়ার নেতৃত্বে শুরু হয় পেট থেকে লোহার রড বের করে আনার প্রক্রিয়া। দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের পর পেট থেকে দেড়ফুট দীর্ঘ, কাদামাখা, জংধরা লোহার রডটি বের করে আনেন তাঁরা। সংকট পুরোপুরি না কাটলেও এখন স্থিতিশীল বছর ত্রিশের শ্যামল জানা। 

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এমন অস্ত্রোপচার এমনিতেই খুব ঝুঁকিপূর্ণ। শ্যামল জানার লিভার ক্ষতিগ্রস্থ না হলেও খাদ্যনালী বাজেরকম আহত হয়েছে। তার সঙ্গে রয়েছে মাথার চোট। তবে, প্রাথমিক বিপদ কেটে গেছে। নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে তাঁকে ফিরিয়ে এনেছেন এমআর বাঙুর হাসপাতালের চিকিৎসকেরা।

Developed by DXDasia