রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে পথচলা

রবীন্দ্রভূবনকে ছুঁয়ে থাকা বিশিষ্ট শিল্পীদের আঁকা ছবি। কিউরেটর সুশোভন অধিকারী

(গত বছর ২২ শে শ্রাবণ কলকাতার মায়া আর্ট স্পেসে সুশোভন অধিকারীর তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনী থেকে কিছু ছবি)

পিছন ফিরে রবীন্দ্রনাথ ও তাঁর সৃষ্টির দিকে তাকিয়ে এখন কী মনে হয় আমাদের? তাঁর কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক এগুলো কি সবই সেকেলে হয়ে গিয়েছে? পাশাপাশি রচিত অজস্র প্রবন্ধে তাঁর ভাবনা চিন্তার বিচার বিশ্লেষণ বিস্তারকেও কি বাতিলের দলে ফেলে দিতে হবে? এমনকি তাঁর চিত্রকলা সেও কি আর এই সময়ের চমকদারি আর্টের সঙ্গে পাল্লা দিতে অপারগ? অতএব রবীন্দ্র-চিত্রকলার গায়ে প্রাচীনত্বের লেবেল লাগিয়ে তাকেও কি আলমারিতে বন্ধ করে তালা ঝুলিয়ে দেবো? না, তা একেবারেই মনে হয় না আমাদের।

 

রবীন্দ্রনাথের ৭৫ তম প্রয়াণবর্ষে দাঁড়িয়ে আজও যে প্রতি মুহূর্তে তাঁকে নতুন করে আবিষ্কার করে চলেছি। তাঁর সৃজনের ভাঁড়ার থেকে বিচিত্র মণিমানিক্য এখনও নতুনের মতো আমাদের চমকে দিচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর সময়সীমা থেকে এগিয়ে এসেছিলেন সামনের দিকে। ভালো করে খেয়াল করলে দেখি, এখনও তিনি আমাদের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে। যদিও প্রতিদিনের ব্যস্ততায় তাঁর দিকে ভালো করে চেয়ে দেখার অবকাশ আমরা হারাতে বসেছি। কিন্তু তাঁর ভাবনা কি ফল্গু স্রোতের মতো আমাদের মনের গভীরে নিরন্তর প্রবাহিত হচ্ছে না? আমাদের ভাবনায়, আমাদের কাজে নিঃসন্দেহে কোথাও না কোথাও অদৃশ্য স্পর্শে ঘিরে আছেন রবীন্দ্রনাথ- তা সচেতনভাবে বা অবচেতনে যেভাবেই হোকনা কেন।

 

মায়া আর্টস স্পেসের পক্ষে কবির ৭৫ তম প্রয়াণবর্ষে আমরা জড়ো করেছি কিছু বিশিষ্ট শিল্পীর কাজ-যা কোনও না কোনভাবে রবীন্দ্রভূবনকে ছুঁয়ে আছে। কখনও তা প্রত্যক্ষের স্পষ্টতায় আবার কখনও-বা প্রচ্ছন্ন অবচেতনে। এই প্রদর্শনীতে ছবি দেখতে দেখতে হয়তো মনে পড়ে যাবে রবীন্দ্রনাথের কবিতার ছন্দ, গানের দু-একটা কলি, গল্পের টুকরো অথবা নাটকের সংলাপ। এভাবেই তাঁকে আমাদের শ্রদ্ধা, আমাদের বিনম্র স্মরণ।

সুশোভন অধিকারী
২২ শ্রাবণ, ১৪২৩

 

Developed by DXDasia