হ্রস্ব উ দীর্ঘ ঊ ডাক ছাড়ে ঘেউ ঘেউ

নানান কথা বানান নিয়ে

পুজো এসে গেল। মানে মা দুর্গা আসছেন। চারিদিকে পুজো পুজো গন্ধ। মুশকিল হল একটাই, স্কুলের পরীক্ষায়ও এই দুর্গা পুজো নিয়ে লিখতে হতে পারে। হয় অনুচ্ছেদ, নয় চিঠি। এইখানেই তো সমস্যা।কখনও দুর্গা নিয়ে আবার কখনও ব দূ্র্বা নিয়ে । উ-কার আর ঊ-কার, এই দু’জন কোথায় যে কে কখন বসে, মাঝে মাঝেই তা গোলমাল হয়ে যায়। শুধু কী তাই? সঙ্গে আবার আছে ‘রেফ’-এর ঝামেলা।‘রেফ’ যে কার মাথার উপর কখন বসবে, সেটাও ছোটদের কাছে বেশ মুশকিলের বিষয়!

দুর্গা নিয়ে সমস্যা বেশি তার কারণ, ‘দূর্গা’, এই ভুল বানানটা ছোটরা পথে ঘাটে বিজ্ঞাপনে, দোকানের সাইন বোর্ডে প্রায়ই দেখে। এই ভুল আটকাতে বা মনে রাখার সুবিধের জন্য, ছোটদের বলা যেতে পারে দুর্গা হলেন দেবী , যাঁকে মা হিসেবে অনেকে উপাসনা করে, আর মা তো আমাদের স্নেহ করেন, ভালোবাসেন তাই ‘দু’ উচ্চারণ কোমল ভাবেই করা হবে । আর লেখার সময়ও তাই ‘ দ্+উ=দু’ লেখা হবে।

আবার, দূর্বা, ঘাসের একটা অংশ। তাকে মাটি থেকে টেনে তুলতে হয়, জোর লাগে। তাই দ্+ ঊ= দূ হবে।( বাচ্চাকে শেখাতে এই ভাবে ছোট ছোট গল্প বললে ওদেরও মনে রাখাটা সহজ হয়)

মনে রাখার জন্য একই ভাবে ছোটদের বলা যেতে পারে, দুষ্টু, দুরন্ত, দুরবস্থা , দুর্গতি, দুর্গম, দুর্বার  ইত্যাদির ক্ষেত্রে ‘দু’-এর উচ্চারণ আস্তে হয়।

আবার যখন দ্+ঊ= দূ  উচ্চারণ হবে, তখন জোর পড়বে ‘দূ’ তে। দূর বা দূরত্বের যে ‘দূ’ সেই ‘দূ’ একটু জোর দিয়ে উচ্চারণ করতে হবে।হ্রস্ব-উ এবং দীর্ঘ-ঊ-এর এমন দু’রকমের উচ্চারণ যদি ছোটরা রিডিং পড়ার সময় অভ্যাস করে, তাহলে এই ধরনের বানান ভুল কমে যেতে বাধ্য।

এবার রেফ-এর কথায় আসা যাক। দুর্গা , দূর্বা লিখতে গেলে রেফ দিতে হয়। রেফ কি, কেন, এত সব জটিলতায় না গিয়ে ছোটদের বলা যেতে পারে দুর্গা উচ্চারণে যেখানে ‘র’ এর উচ্চারণ হয় ঠিক তার পরের বর্ণের উপর ‘রেফ’ বসবে। যেমন বর্ণ উচ্চারণ করছে ‘ব’এর পর ‘র’ উচ্চারণ হচ্ছে তাই ‘ণ’ এর উপর রেফ হবে। আশীর্বাদ- এই শব্দটি উচ্চারণে ‘আশী’-র পর ‘র’ শোনা যাচ্ছে তখন ’র’টি ‘রেফ’ হয়ে ‘ব’ এর মাথায় বসবে। দুর্গতি/দুর্বার/দুর্বল উচ্চারণে দুর্ যেই উচ্চারণ হল তখনই তারপরের বর্ণে মাথায় রেফ বসবে।

এত কিছু করেও ছোটরা দুভির্ক্ষ লিখবে। বারবার অনুশীলন করালে মনের মধ্যে শব্দেরা ছবি এঁকে চলে ফিরে বেড়াবে, ফলে লেখার সময় বানান ভুল থেকে রেহাই পাওয়া সহজ হয়।

Developed by DXDasia