খুলল ডুয়ার্সের রামঝোরা চা বাগান

এক সময় বছরে ১০ লক্ষ কেজি চা পাতা উৎপাদন হত সেখানে

ডুয়ার্সের আলিপুরদুয়ার এলাকার অধীন রামঝোরা চা বাগান খুলে গেল বুধবার। ফলে সেখানকার ৯৭৭ জন শ্রমিক আবার ফিরে পেলেন কাজ। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাগানটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। রাজ্য শ্রম দপ্তরের উত্তরবঙ্গের যুগ্ম শ্রম কমিশনার চন্দন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, মঙ্গলবার তাঁর দপ্তরে বাগানের দশটি ইউনিয়ন ও মালিক পক্ষের মধ্যে বৈঠকের পর বাগান খোলার সমাধানসূত্র বেরিয়েছে।

অর্থনৈতিক সমস্যা তীব্র হয়ে উঠেছিল রামঝোরা চা বাগানে। এক সময় সেখানে বছরে ১০ লক্ষ কেজি চা পাতা উৎপাদন হত। কিন্তু নানা সমস্যার জেরে সেই উৎপাদন বছরে আড়াই লক্ষ কেজিতে নেমে আসে। তার সঙ্গে ছিল শ্রমিক সমস্যা। বাগানে কিছু বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ফলে বাগান বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকরা প্রচণ্ড অসুবিধেয় পড়ে। অনেকের উনুনে হাড়ি চড়ানোর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এই অবস্থায় বাগান খোলার জন্য প্রয়াস চলছিল। শেষে মঙ্গলবার শিলিগুড়ি যুগ্ম শ্রম কমিশনারের দপ্তরে বাগান খোলার বৈঠক সফল হয়। যুগ্ম শ্রম কমিশনার জানিয়েছেন, স্থির হয়েছে বাগানের শ্রমিকদের বকেয়া সব বেতনের টাকা মিটিয়ে দেবেন মালিকপক্ষ। সরকার নির্ধারিত শ্রমিকদের মজুরি ১৩২ টাকা ৫০ পয়সা ঐ বাগানে দেওয়া হচ্ছিল না। তার পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছিল ১২২ টাকা। এবার থেকে নির্ধারিত সেই টাকাই দেওয়া হবে। বাগান মালিক বছরে ৫০ হেক্টর করে বাগানে চা গাছ রোপণ করবেন বলেও স্থির হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর একটা থেকে সন্ধ্যা ছটা পর্যন্ত বৈঠকের পর বেরিয়েছে ঐ সমাধানসূত্র। এখনও উত্তরবঙ্গে বড় চা বাগানগুলির মধ্যে বান্দাপানি, মধু, ধেকলা পাড়া, কুমলাই, মানাবাড়ি, পানিঘাটা বন্ধ হয়ে রয়েছে। তার বাইরে আরও ছোট কয়েকটি বাগান বন্ধ রয়েছে। সব বাগান খোলার চেষ্টাই হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুগ্ম শ্রম কমিশনার। তবে রাজ্য সরকারের খাদ্য দফতরের কর্মসূচির জেরে সব বাগানেই শ্রমিকদের চাল, গম দেওয়া হচ্ছে।

Developed by DXDasia