
যোগেশ মাইম অ্যাকাডেমিতে প্রদর্শিত হবে প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের এই ছবি
২০১৩ সালে তাঁর প্রথম পরিচালিত বাংলা ছবি ‘বাকিটা ব্যক্তিগত’র জন্য পেয়েছিলেন সেরা বাংলা চলচ্চিত্র হিসাবে জাতীয় পুরস্কার। তারপর পেরিয়ে গেছে বেশ কিছু বছর। বেশ কয়েকটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি এবং একটি টেলিভিশন ছবি বানিয়েছেন মাঝে। ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’ তাঁর দ্বিতীয় মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি। তিনি প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য। ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’ পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেয়েছিল শর্ত সাপেক্ষে। মাত্র চারদিন প্রদর্শিত হয়েছিল কলকাতার হলগুলিতে। দর্শক এবং সমালোচকমহলে বহুল প্রশংসিত হয়েছিল এই ছবি। সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়াল ছেয়ে গিয়েছিল এই ছবির পোস্টারে। তারপরেও কেটে গেছে দুই মাস। এবার শিলিগুড়ি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী ছবি হিসাবে দেখানো হয় ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’। সেখানে হাজির ছিলেন স্বয়ং পরিচালক থেকে ছবির কলাকুশলীরা। কলকাতায় নিজেদের উদ্যোগে আবার দেখানো হতে চলেছে প্রদীপ্তর এই ছবি। আগামী ২৯ ও ৩০ নভেম্বর, দুপুর ২-৩০টে ও সন্ধে ৬-১৫ থেকে কলকাতার যোগেশ মাইম অ্যাকাডেমিতে (কালীঘাট) প্রদর্শিত হবে এই ছবি। অনেকটা থিয়েটারের মতোই। এইভাবে চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা পশ্চিমবঙ্গের মতো জায়গায় নতুনই বটে।
তবে জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের কাছে এই উদ্যোগ নতুন কিছু নয়। এর আগে তাঁর প্রথম ছবি ‘বাকিটা ব্যক্তিগত’র ক্ষেত্রে তিনি নদিয়া জেলার তেহট্ট অঞ্চলে প্রোজেকশনের মাধ্যমে প্রদর্শন করেছিলেন সেই ছবি। উপচে পড়েছিল ভিড়। প্রদীপ্ত তাই আশাবাদী। সারাবছর ধরে মুক্তি পাওয়া বিভিন্ন ছবির মাঝে প্রায় হারাতে বসা ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’ মুক্তির সময় অনেকে দেখতে পাননি বলে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন অসংখ্য সিনেপ্রেমী মানুষ। সিনেমাহলগুলি কোনো অবস্থাতেই নিজেদের অবস্থান সম্বন্ধে বিশেষ কিছু জানাননি এরপরেও। জেদি এবং সাহসী পরিচালক প্রদীপ্ত হার মানতে না রাজ। তিনি আমাদের জানান, “যোগেশ মাইমে আমাদের দুই দিন ধরে চারটে শো রয়েছে। এখনও অবধি খুব ভালো টিকিট বিক্রি হচ্ছে। এমনিতে আমার সময়ের পরিচালকদের থেকে খুব একটা সাড়া পাচ্ছি না। দু-একজন পাশে আছেন। কিন্তু বাকিরা চুপ।”

‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’ প্রশংসিত হওয়ায় প্রদীপ্ত সেসময় বলেছিলেন, দর্শকদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আরেকটা সিনেমা বানিয়ে দেওয়া ছাড়া আমার আর কিছু দেওয়ার নেই। প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের সিনেমার ট্রিটমেন্ট যেরকম সাহসী, সেরকমই জীবনের খুব কাছ থেকে উঠে আসে কিছু এলিমেন্টস, সিনেমার ব্যাকরণ মানেন না তিনি, প্রত্যেকটা দৃশ্যের ভিতর দ্বন্দ্ব, জাদুবাস্তবার শক্তিশালী প্রয়োগ তাঁর ছবির বড়ো দিক – এই এতকিছুর মাধ্যমে প্রদীপ্ত বুঝিয়ে দিয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর জায়গা কোথায়। ফিল্ম কম্পেনিয়ানের দশ বছরে ১০০টি ভারতীয় ছবির তালিকায় রয়েছে ‘বাকিটা ব্যক্তিগত’। গত পাঁচ বছরে সেরা ছবি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে এটি এবং সেরা পারফর্মার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী। আর শ্রীকান্তরা? আলোর মতোন, হাসির মতোন, কুসুমগন্ধ রাশির মতোন, হাওয়ার মতোন, নেশার মতোন, ঢেউয়ের মতোন ভেসে যান, তারা এমনি এসে ভেসে যান। টিকিট সংগ্রহের জন্য দেখুন নিচের ছবিটি।

