
বৃষ্টির জলের সাথে অজয়ের বুকে মালসায় ফল ধুপ ভাসানো হয় আর বলা হয় যাতে বন্যা না আসে
প্রাক বর্ষার বৃষ্টি বলতে গাঁ বাংলার হিসেবে বলে ‘ মিগের বাত’। মেঘ থেকে মিঘ হয়ে লোক মুখে চলিত হয়েছে মিগ বলে। এই মিগের বাতের বৃষ্টিতে জমি ভেজার কারবার শুরু হয়ে গেল। আর কদিনেই আষাঢ়ের অম্বুবাচী। গ্রাম সুবাদে বাচস্পতি বয়ান লিখে জানান দিলেন, ধরিত্রী ‘ঋতুমতী’ হয়েছেন। বিধবারা চাষ মাটিতে পা দেবেন না এমনই দস্তুর। অন্য দিকে সাবধান সবাইকে। পাশাপাশি আরো অনেক আয়োজন করতে করতেই আষাঢ় ঢুকে পড়ে নিজের মতো করে। কাটোয়ার দেব গ্রাম চত্বরে বন দুর্গার পুজো-র ধুম লাগে। চরু বসাতে হবে যে এবার। ওই দিনেই হিসেব পাওয়া যাবে বৃষ্টি এবার আসবে কোন দিক থেকে। এই জানানটা গ্রামের ঘর গেরস্থলির বউ মানুষদের জানা আছে। হাড়ি থেকে বন দুর্গার চরু বা পায়েস যে দিকে উথাল দেবে বৃষ্টি আসবে সেদিক থেকেই।
এবার ‘বেঙ বেঙ যতনের বেঙ, বেঙ বড় রসিয়া রে’। রসিক ব্যাঙের দৌলতে এবার বাচ্চা-কাচ্চাদের কাজ বাড়ল। তারা ব্যাস্ত হয়ে নেমে পড়ল ব্যাঙ ধরার কাজে। গ্রাম চেনা ঠাকুর দাদার চিনে নিতে হবে ব্যাঙের রাজ যোটক বর আর বউ-কে। পোলা পানেরা ফাঁদ দেবে তার পর। সেই ব্যাঙের বর আর বউকে বিয়ে দিয়ে গর্তে রাখলে চাষ জমিতে বৃষ্টি নামবে আষাঢ় বেয়ে। তাই ব্যাঙের বিয়ে দেওয়ার দেদার আয়োজন দিকে দিকে।
গাঁ বাংলার বর্ধমান, হুগলী বিবিধ জেলায় যেমন আষাঢ়ের নানা আয়োজন তেমনই বীরভূমের অজয় তীরে ধল- উৎসবের তোরজোড় শুরু হয়ে যায়। বৃষ্টির জলের সাথে অজয়ের বুকে মালসায় ফল ধুপ ভাসানো হয় আর বলা হয় যাতে বন্যা না আসে।
কিন্তু বন্যা মাঝে মধ্যেই হাজির হয় নদের বুকে ভর করে। যশোর জেলার চক্ষু পানি বইয়ে দেওয়া কবিয়াল বিজয় সরকারের মরমী গানে মেঘ রাজার বান ভাসি কাহিনীর দরজা খোলে আষাঢ়ের প্রথম দিনে। কবি বিজয় সরকার খবর করে দেন, আষাঢ়ের ভেজা পথ বেয়ে কি ভাবে আসে ঘর ভাঙা এক দুরন্ত শ্রাবণ। যখন এমনি দিনে লেগেছে মনের কূলে ভাঙন। বিজয় জানান, জল পরী কন্যা উদাস চোখে শ্রাবণের বন্যা দ্যাখে। আসলে আল্লা ম্যাঘ দে পানি দে বলতে বলতেই একদিন গ্রাম ভিজিয়ে বর্ষা নামে।
