
দিনযাপনে বাছাই চার
রেলের টিকিটে এখন থাকছে বাংলাও
ট্রেনের টিকিটে থাকছে বাংলা ভাষাও। পূর্ব এবং দক্ষিণপূর্ব রেলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ১৫ জানুয়ারি থেকে পশ্চিমবঙ্গের অসংরক্ষিত টিকিটে ইংরেজি এবং হিন্দির সঙ্গে বাংলাতেও লেখা থাকছে যাত্রা শুরুর স্টেশন ও গন্তব্য স্টেশনের নাম। স্থানীয় যাত্রীদের যাতে সুবিধে হয়, তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আগে রেলের টিকিটে বাংলা থাকত। কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরে তা বন্ধ ছিল। বেশ কিছু সংগঠন বাংলায় রেলের টিকিট ছাপার দাবিতে সরব হয়েছিল। এখন থেকে এই রাজ্যে ইউটিএস বা মেশিনে ছাপা টিকিটে বাংলা রাখা হচ্ছে।

পল রবসন থেকে ভূপেন হাজারিকা, চ্যাপলিন থেকে সলিল চৌধুরী – বাংলা গানের সুরে বিশ্ব
মানুষ তাঁর নিজের শ্বাস-প্রশ্বাস, হাত, পা, মুখ ইত্যাদি দিয়েই নির্মাণ করেছেন সুরের মূর্চ্ছনা। যার ফলে একটি বিশেষ ভাষার বা বিশেষ দেশের গান নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলে সীমাবদ্ধ না থেকে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের এ প্রান্ত থেকে সে প্রান্তে। গান হয়ে উঠেছে বেঁচে থাকার অস্ত্র আর সুর প্রতিবাদের আরেক ভাষা। মায়া আর্ট স্পেসের ৫২তম মায়া আড্ডার অতিথি ছিলেন গীতিকার-সুরকার-সংগীত কর্মী প্রসাদ রঞ্জন দাস, যাঁকে সংগীত জগৎ চেনে রঞ্জন প্রসাদ নামেই। এদিন নিজের গানের জার্নির সঙ্গে ঘুরে ফিরে চলে আসছিল বিশ্ব-গানের সঙ্গে বাংলা গানের সম্পর্ক। যেখানে ভাষা কখনও অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়নি। উদাহরণ দিতে দিতে তিনি বলছিলেন, রবীন্দ্রনাথ, ভূপেন হাজারিকা, সলিল চৌধুরী এমনকি মহীনের ঘোড়াগুলির গানের সুরেও পালাবদলের ঝোঁক ছিল। যেমন- ‘Auld Lang Syne’ গানের উপর ভিত্তি করে রবীন্দ্রনাথের ‘পুরানো সেই দিনের কথা’, বেন জনসনের ‘Drink to Me only with Thin Eyes’ হয়ে উঠল ‘কতবারও ভেবেছিনু’। অন্যদিকে পল রবসনের ‘Ol Man River’ হয়ে উঠেছে ‘বিস্তীর্ণ দুপারে’। চার্লি চ্যাপলিনের লাইমলাইটের থিম মিউজিক অনুপ্রাণিত করেছিল সলিল চৌধুরীকেও। এইভাবে বিশ্বনদী ব্যাপী সুরের স্রোত বয়ে গেছে – আরও কত কত উদাহরণ থেকে গেছে তা আজও আমাদের অজানা। রঞ্জন প্রসাদ নিজের গান গাওয়া ছাড়াও যুক্ত ছিলেন সাতের দশকের বিখ্যাত ব্যান্ড ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’র সঙ্গে। এদিন আড্ডায় ঘুরে ফিরে এসেছে গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের নাম। এসেছে আটের দশকের আরও একটি উল্লেখযোগ্য গানের দল ‘নগর ফিলোমেল’-এর প্রসঙ্গও।

বাংলার জীবন ‘যাত্রা’
“দেশের একমাত্র সাংস্কৃতিক রাজধানী শহর হল কলকাতা। এই শহর ধারণ করে বাঙালির ফেলে আসা মুহূর্ত এবং ঐতিহ্যকে। বিনোদন জগতে প্রায় ভুলতে বসা যাত্রাপালা প্রতিবারের মতো বাগবাজারের ফণিভূষণ বিদ্যাবিনোদ মঞ্চে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ‘বাংলার জীবন যাত্রা’ – এই নামে যাত্রা উৎসব পা দিল ২৪ বছরে। ৩২ দিনে ৩৮টি যাত্রাপালা মঞ্চস্থ হচ্ছে। কলকাতা চিৎপুরের অপেরাগুলি ছাড়াও রয়েছে জেলার যাত্রা। ‘এখন আর কেউ যাত্রা দেখেন না’ – এরকম প্রচলিত ধ্যানধারণাকে নস্যাৎ করে প্রচুর মানুষ ভিড় করছেন এই যাত্রাগুলি দেখতে। বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে যাত্রা শুরু হলেও টিকিট কাউন্টারে লাইন পড়ছে দুপুর থেকেই। জেলার যাত্রাগুলি থাকছে দুপুরে যাতে তাঁদের ফিরতে সমস্যা না হয়। কলকাতার যাত্রাগুলি সন্ধেতে অভিনীত হচ্ছে। যাত্রার পালাবাদল এবং সুদীর্ঘ ইতিহাস নিয়ে একটি অনবদ্য প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন প্রখ্যাত যাত্রাভিনেতা চপল ভাদুড়ি। আকাশবাণী যাত্রা সংস্থার ‘কালো মেয়ের রাঙা চরণ’, সত্যনারায়ণ অপেরার ‘বিষে বিষে বিষক্ষয়’ ছাড়াও অনল চক্রবর্তী, কাকলি চৌধুরী, ত্রিদিব ঘোষ, মঞ্জিল ব্যানার্জী-সহ একাধিক অভিনেতাও রয়েছেন দর্শকদের সঙ্গে।

সবার জন্য অন্দরমহল খুলে দিচ্ছে ফোর্ট উইলিয়াম
ফোর্ট উইলিয়ামের ভিতরে এতদিন সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার ছিল না। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় শাখার প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল অনিল চৌহান ফোর্ট উইলিয়ামের বিজয় স্মারক দর্শকদের সামনে খুলে দেওয়া কথা ঘোষণা করেছিলেন। এবার তিনি জানালেন, ফোর্ট উইলিয়ামের কিছু বিখ্যাত অংশ ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন আমজনতা। বুধবার আর্মি দিবস উপলক্ষ্যে তিনি বলেন, প্রতি রবিবার একটি হিস্টোরিক্যাল ওয়াক বা গাইডেড হেরিটেজ ট্যুরের আয়োজন করা হবে। তখনই সাধারণ মানুষ ফোর্ট উইলিয়ামের ভিতরে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। অবশ্য, কবে থেকে এই ট্যুর শুরু হবে, তা এখনও জানানো হয়নি।
