প্রকৃতির সঙ্গে সহজাত আত্মিক সম্বন্ধ টের পেতেন রবীন্দ্রনাথ

মরুবিজয়ের কেতন উড়াও শূন্যে হে প্রবল প্রাণ

 মরুবিজয়ের কেতন উড়াও শূন্যে   হে প্রবল প্রাণ।

এই গানের মধ্য দিয়ে রুক্ষ ভূমিতে প্রানের সঞ্চার করতে বলেছেন রবীন্দ্রনাথ, যেমন তিনি ‘বলাই’ গল্পে লিখেছিলেন, ‘ওর সব-চেয়ে বিপদের দিন, যেদিন ঘাসিয়াড়া ঘাস কাটতে আসে। কেননা, ঘাসের ভিতরে ভিতরে ও প্রত্যহ দেখে দেখে বেড়িয়েছে– এতটুকু-টুকু লতা, বেগনি হল্‌দে নামহারা ফুল, অতি ছোটো ছোটো; মাঝে মাঝে কন্টিকারি গাছ, তার নীল নীল ফুলের বুকের মাঝখানটিতে ছোট্ট একটুখানি সোনার ফোঁটা; বেড়ার কাছে কাছে কোথাও-বা কালমেঘের লতা, কোথাও-বা অনন্তমূল; পাখিতে-খাওয়া নিমফলের বিচি পড়ে ছোটো ছোটো চারা বেরিয়েছে, কী সুন্দর তার পাতা– সমস্তই নিষ্ঠুর নিড়নি দিয়ে দিয়ে নিড়িয়ে ফেলা হয়। তারা বাগানের শৌখিন গাছ নয়, তাদের নালিশ শোনবার কেউ নেই।‘

প্রকৃতির সঙ্গে তাঁর সহজাত আত্মিক সম্বন্ধ টের পেয়েছিলেন শিশুবস্থা থেকেই। তাই আজীবন তিনি লিখে যেতে চেয়েছিলেন, থেকে যেতে চেয়েছিলেন মাটির কাছে, সবুজ প্রাণের ভিতরে। প্রকৃতির প্রতি তাঁর অনন্ত প্রেমের আলো তিনি জ্বালিয়ে রেখে গিয়েছেন শান্তিনিকেতনে। তাই, ২২শে শ্রাবণ, তাঁর প্রয়াণ তিথিতে  শান্তিনিকেতনে বৃক্ষরোপণ উৎসবের মধ্যে দিয়ে, প্রকৃতিপ্রেম উদযাপিত হয় আজও। সকলে গলা ছেড়ে গেয়ে ওঠে:

 মরুবিজয়ের কেতন উড়াও শূন্যে   হে প্রবল প্রাণ।

          ধূলিরে ধন্য করো করুণার পুণ্যে   হে কোমল প্রাণ॥

     মৌনী মাটির মর্মের গান কবে   উঠিবে ধ্বনিয়া মর্মর তব রবে,

          মাধুরী ভরিবে ফুলে ফলে পল্লবে   হে মোহন প্রাণ॥

ফসল ফলানোর জন্য প্রয়োজন ছিল কৃষিকাজের, আর তার জন্য প্রয়োজন ছিল লাঙলে্র, হালের। কৃষিকাজের এই পদ্ধতিকে উৎসবের ছত্রছায়ায় এনেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। উৎসবের নামকরণ করা হয়েছিল, ‘হলকর্ষণ উৎসব’। এই উৎসবটির জন্য তিনি এবং তাঁর পুত্র রথীন্দ্রনাথ স্বাভাবিকভাবেই  বেছে নিয়েছিলেন শ্রীনিকেতন, কারণ সেখানকার মাটি এতটাই উর্বর ছিল যে, ইনস্টিটিউট অফ আগ্রিকালচার সায়েন্স অ্যান্ড রুরাল এক্সটেনশন সেন্টারের জন্য তা মনোনীত হয়েছিল।

আমরা চাষ করি আনন্দে,      অথবা   

সব কাজে হাত লাগাই মোরা সব কাজে…

‘হলকর্ষণ উৎসব’-এর ধারণাটি অসংখ্য রবীন্দ্রসঙ্গীতে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

 

 

Developed by DXDasia