রবীন্দ্রনাথের কলম চুরি, সুরাহা কলকাতা পুলিশের

রবীন্দ্রনাথ পায়চারি করছেন জোড়াসাঁকোর দোতলার বারান্দায়, হঠাৎ উপস্থিত জোড়াসাঁকো থানার ইনস্পেক্টর

মন খারাপ রবীন্দ্রনাথের। তাঁর মুখে সবসময় একটাই কথা, ‘আহা আমার সাধের ঝর্না কলম!’ গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ পাঠের মাঝে মাঝেই বারবার একই প্রসঙ্গ তুলে মন খারাপ করছেন তিনি। একদিন সকালে, দশটার দিকে, রবীন্দ্রনাথ পায়চারি করছেন জোড়াসাঁকোর দোতলার বারান্দায়, হঠাৎ উপস্থিত জোড়াসাঁকো থানার ইনস্পেক্টর। সঙ্গে কোমরে দড়ি বাঁধা এক ব্যক্তি। পুলিশটি বললেন এটি একটি দাগী আসামি। চুরির কেসে ধরা পড়েছে। তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা জিনিসের মধ্যে সোনাগয়না, জামাকাপড়, বসনপত্র, বোতাম, বই ছাড়াও আছে একটি ঝর্না কলম। চোরটি বলছে কলমটা নাকি সে চুরি করেছে এই বাড়ি থেকে। কলমটি দেখেই রবীন্দ্রনাথ আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠলেন। বলেন, এই তো আমার সাধের কলম। এ কলমে আমি লিখি। ক’দিন হল হারিয়েছে, কোথাও পাচ্ছিনে। পুলিশটি বলেন, কলম পেতে হতে যেতে হবে কোর্টে। কোর্টে কলম মোকদ্দমা চলবে। মোকদ্দমা চলাকালীন নিয়ম অনুযায়ী কলমের মালিকে হাজির হতে হবে কোর্টে। এই কথা শুনে রবীন্দ্রনাথের আবার মন খারাপ হয়ে গেল। কলম তো চাই কিন্তু কোর্ট মানেই হাজারো ঝুটঝামেলা। শেষমেশ রবীন্দ্রনাথের অনুরোধে আইনজ্ঞ সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায় তাঁর হয়ে হাজির হন কোর্টে। রবীন্দ্রনাথ ফেরত পেলেন তাঁর সাধের কলম। মামলার শুনানির শেষে জোড়াসাঁকো থানার ইনসপেক্টরের কপালে জুটল বিচারকের বকাবকি।

আইন মেনে কাজ করার জন্যও পুলিশের এই বকাবকি খাওয়ার অভিজ্ঞতাকে সম্প্রতি কলকাতা পুলিশ তাদের স্যোসাল মিডিয়ার সাইটে তুলে ধরল। দেশের প্রশাসনকে অনেক সময় দেশের ও সমাজের স্বার্থে এমন অনেক কাজ করতে হয় যা খানিকটা দৃষ্টিকটু হলেও বৃহত্তর সমাজের উপযোগী। এই রকম কলকাতা পুলিশ ও তাদের নানা রকম কর্মকাণ্ডের কথা মানুষকে জানাতে স্যোসাল মিডিয়ার সাইটে দেওয়া হচ্ছে। এই সব পোস্টের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে অনেক পুরনো কেসের কথা পুলিশ ফাইল থেকে। এর ফলে সাধারণ মানুষ যেমন পরিচিত হচ্ছে পুলিশের নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে, তেমনই নতুন ভাবে খোলার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে অদূর ভবিষ্যতে

Developed by DXDasia