
শেলি, কিটস দুজনেই এত বড় কবি। তাহলে কিসের সংঘাত দু-জনের?
শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠার পর প্রথমদিকে রবীন্দ্রনাথ ছাত্রদের পড়াতেন। একদিন তিনি ইংরেজি ক্লাসে শেলির কবিতা পড়াচ্ছেন। শান্তিনিকেতনে তো গাছের তলায় বসে পড়াশোনা হয়। রবীন্দ্রনাথ বসেছেন মধ্যিখানে। তাঁর চারপাশে বসেছে ছাত্ররা। হঠাৎ বেশ কিছু পোকার উৎপাত শুরু হল। রবীন্দ্রনাথের গায়ে পা পর্যন্ত ঝোলা জোব্বা, কিন্তু ছাত্রদের বেশিরভাগেরই তখন ধুতি পরার বয়স হয়নি। পোকার জ্বালায় অস্থির হয়ে তারা কেবলই গা, হাত, পা চুলকোতে লাগল। রবীন্দ্রনাথ তো বুঝতে পারলেন না ছেলেরা ওরকম করছে কেন? তিনি বললেন, ‘কী ব্যাপার, তোমরা আজ এত অস্থির কেন?’ ছাত্রদের মধ্যে প্রমথনাথ বিশী ছিলেন। তিনি বললেন, ‘যদি অভয় দেন তো বলি।’ গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ অভয় দিতে প্রমথনাথ বিশী বললেন, ‘গুরুদেব, আপনি তো শেলি পড়াচ্ছেন, কিন্তু কিটস আমাদের বড়ই বিরক্ত করছে।’
