
যদি কোনদিন আমার সমস্ত ভুবন ঢেকে যায় অন্ধকারে, রবিগান সেই তমসায় আলোর কমলকলি হয়ে রয়ে যাবে
রবীন্দ্রনাথ তো সেই কবে থেকেই মিশে আছেন অস্তিত্বে। সহজ পাঠের হাত ধরে পথ চলার শুরু ছিল। তারপর একে একে দমকা হাওয়ায় খুলে গেল হৃদয়ের অলিন্দগুলি। সেখানে জুঁই বকুলের সুরভি ছড়িয়ে উঁকি দিয়ে গেল কবিতা, গল্প, নাটক, উপন্যাস, ছবি, প্রবন্ধ, এমনকি ঝুরো ফুলের পাপড়ি অজস্র চিঠিপত্রও। মুগ্ধ হলাম, বিবশ হলাম, কলম আঁকড়ে লিখতে গেলাম কত কিছু। দেখি এই মানুষটি সব কিছু লিখে রেখে গেছেন। আজন্মের যত অনুভব। আর গান? শুনি এই বাণী এই সুর এই সমর্পণ ….শুধু এই গানের পায়ে আমি প্রতি মুহূর্তে নি:শর্তে নিজেকে বিকিয়ে দিই। নিত্যদিন। যদি কোনদিন আমার সমস্ত ভুবন ঢেকে যায় অন্ধকারে, রবিগান সেই তমসায় আলোর কমলকলি হয়ে রয়ে যাবে।
আমার জাগরবেলার মায়াবী ভোরে, মিঠে রোদ্দুরমাখা সকালে, মাঝ-আকাশে সূর্য আঁকা দুপুরে , আলো -ঝিলমিল বিকেলে, দামাল ঝড়ের সন্ধেবেলায় বা জোনাকি -জ্বলা নিঝুম রাতে আমার বিজন ঘরের বন্ধ বাতায়নে উদাসী হাওয়া ছড় টানবে বেহালায়, ব্যাকুল বাঁশরী ডাক দিয়ে যাবে গানে গানে।
ডাক দিয়ে যাবে, ডাক দিয়ে যায়।রবিগান, আমার সেই হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা।সে মোহনবাঁশি আমার অন্তরমহলে অবাধে লুঠতরাজ করে দরজা জানলা খুলে তছনছ করে দেয়।
আর …ফুল ফুটিয়ে দিয়ে যায়। যে ফুলের নানা রং। কিছু চেনা, কিছু বা অচেনা, আধচেনা ।
ভালোবেসে যাকে ভালো নামে ডাকি …..
অনুভব।
