
বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস, কাশীরাম দাস, কৃত্তিবাস ওঝা সহ জানা-অজানা অসংখ্য রচয়িতার সহাবস্থান সেখানে
তিনতলার বিশাল হলঘরে থরে থরে সাজানো রয়েছে পুঁথি। বেশিরভাগই র্যা কে, কিছু কিছু কাঁচের টেবিলে প্রদর্শিত। বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস, গোবিন্দদাস, কাশীরাম দাস, কৃত্তিবাস ওঝা, মুকুন্দরাম, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, ভারতচন্দ্র সহ জানা-অজানা অসংখ্য রচয়িতার সহাবস্থান সেখানে। এশিয়াটিক সোসাইটির সংগ্রহশালা। অনুমতিপত্র সঙ্গে না থাকলে, দেখতেও পাবেন না পুঁথিগুলি। ছবি তোলা নিষিদ্ধ। অথচ একই ঘরে প্রায় লক্ষাধিক পুঁথির কথা জেনে ভাষাপ্রেমী ও ইতিহাসপ্রেমীদের উল্লাস হওয়া স্বাভাবিক।
সংস্কৃত, বাংলা, অসমিয়া, রাজস্থানি ছাড়াও বিভিন্ন ভাষার পুঁথি আছে এশিয়াটিক সোসাইটির ওই ঘরে। আছে ন্যায়, সাংখ্য, মীমাংসা, যোগ ইত্যাদি সংস্কৃত সম্ভারের সঙ্গে বাংলারও বৈষ্ণব পদাবলি, শাক্তগীতি, পাঁচালি সহ আরও অনেক বৈচিত্র্য। এখনও বিভিন্ন লোক জমা দিতে আসেন তাঁদের সংগ্রহে থাকা পুঁথি। বিখ্যাতগুলির কথা বাদ দিলে, এত পুঁথির ভবিষ্যৎ কী? সংশ্লিষ্ট এক অধিকর্তা জানান, গবেষকদের প্রয়োজন বা চাহিদা হলেই একমাত্র বের করা হবে, নইলে আর্কাইভেই থেকে যাবে সারাজীবন, অনালোচিত হয়ে।
ক্যাটালগের পাহাড় ঠেলে পাওয়া যাবে নির্দিষ্ট কোনও পুঁথি? কঠিন হলেও, সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট কেউই। আশা, একদিন না একদিন আর্কাইভের অন্ধকার থেকে ঠিক উঠে আসবে নতুন কোনও তথ্য, ভাষার ইতিহাস সমৃদ্ধ হবে আরও।
