দুঃস্থ শিশুদের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিস্তারের কর্মসূচি

স্কুলেই শেখানো হচ্ছে নাচ গান এবং নানা ধরনের শিক্ষামূলক কার্যকলাপ

শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গের প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারে যে স্কুল একসময় বিরাট গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করত সেই প্রাচীন স্কুল আজ দুঃস্থ শিশুদের মধ্যে শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিস্তারের কর্মসূচি নিয়েছে। তাছাড়া রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন বিভাগ এবং সর্বশিক্ষা মিশন বিভাগের অধীনেও শুরু হচ্ছে নানা প্রকল্প।

১৮৯০ সালে পাবলিক প্রাইমারি স্কুল নামে শিলিগুড়ির প্রথম তথা প্রাচীন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। ফাদার শশিভূষণ চক্রবর্তী নামে ধর্মান্তরিত বাঙালি ব্রাহ্মন খ্রিষ্টান পাদ্রি এই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। এই স্কুলে ছাত্র ছিলেন অবনীনাথ ভট্টাচার্য, বীরেন্দ্রনাথ রায়সরকার, ডাক্তার কে এন ভৌমিক বা কালু ডাক্তারের মত অনেক কৃতী মানুষরা। কয়েক বছর আগেও এই স্কুলে কোনও সীমানা প্রাচীর ছিল না। সবই ছিল কাঠের তৈরি। গত পাঁচ বছর আগে ভূমিকম্পের জেরে স্কুলের ক্ষতি হয়। তারপর সর্বশিক্ষা  মিশনের সাহায্যে ১৩ লক্ষ টাকা খরচ করে স্কুল ভবন পাকা হয়। বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকেও স্কুলের অনেক উন্নতি হয়েছে। যদিও স্কুলে এখনও অনেক সমস্যা। স্কুলের গায়েই ডি ফান্ড হাট। সেই হাটের ময়লা আবর্জনা স্কুলের সামনে প্রায়ই জমে থাকে। স্কুলের সামনে নর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়াতে তাতে জল জমে মশার উৎপাত বাড়ছে। স্কুল গেটের সামনে গেটে মুড়ির হাটও বসে। প্রাচীন ঐতিহ্যময় স্কুল হলেও স্কুলের বোর্ড টাঙানো যায় নি। তা স্কুলের মধ্যেই কোনো মতে পড়ে আছে। অভাব টাকার।  স্কুল ভবনের রং করা প্রয়োজন। স্কুলে এখন তিন জন শিক্ষক। একজন প্যারা টিচার। ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৮৭ জন। অথচ ভারপ্রাপ্ত টিচার ইনচার্জ শম্পা চক্রবর্তী জানালেন, কয়েকবছর আগেও স্কুলে ছাত্রছাত্রী সংখ্যা ছিল ৩৫০ জন। এখন পঞ্চম শ্রেণীতে লটারিতে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হওয়াতে সেই স্কুলে ছাত্রছাত্রী সংখ্যা কমতে থাকে। স্থানীয় বস্তির ছেলেমেয়েরা সেখানে এখন পড়তে আসে। টিচার ইন চার্জ শম্পাদেবী জানালেন, মিড ডে মিলের জন্য যেমন কিছু ছেলেমেয়ে স্কুলে পড়তে আসে, তেমনি তারা ছাত্রছাত্রী ধরে রাখতে স্কুলে মিউজিক সিস্টেম বসিয়েছেন । এখন নাচের শিক্ষক এনে স্কুলে নাচ শেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। মিউজিক সিস্টেমে রোজই রবীন্দ্র সঙ্গীত হয়। সেই সঙ্গীতে ছাত্রছাত্রীরা রোজই গলা মিলিয়ে চলেছে। তারা পড়ার পাশাপাশি রবীন্দ্র সঙ্গীত গাইছে স্কুলে। তার সঙ্গে ক্যারম, বাগাডুলি, চাইনিস চেকারের মতো ইনডোর গেমসের ব্যবস্থা হচ্ছে। তবে বুধবার স্কুলের সামনে হাট বসলে হাটে কাজ করে স্কুলের অনেক ছাত্র। সেদিন তারা স্কুলে আসে না। এইসব ছাত্রছাত্রীদের কারও বাবা নেই, কারও মা নেই। কেও আবার স্কুলের পর কাজ করে। কারও দাদু দিদিমা শিলিগুড়ির রাস্তায় ভিক্ষা করে নাতিনাতনিকে ওই স্কুলে পড়াচ্ছেন। হাটবারে অনেক ছাত্র স্কুল ছুটির পর হাটের বিভিন্ন প্যাকেট সহ অন্য জিনিস সরিয়ে দুটা পয়সা রোজগারে নামে। সীমা বিশ্বাস, ঝুলন বারুইএর মতো পিছিয়ে পরা শিশুরা শহরের প্রাচীনতম এই স্কুলে পড়ে নিজেদের গান ও নাচের প্রতিভা বিকাশের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। 
 

Developed by DXDasia