এই প্রথমবার দুর্গাপুজোয় মাতবেন বসিরহাটের যৌনকর্মীরা

বসিরহাট দুর্বার সমিতির পরিচালনায় নিষিদ্ধপল্লিতে এই প্রথমবার হতে চলেছে দুর্গাপুজো

স্বপ্নপূরণে তাঁরাও আর পিছিয়ে নেই। যৌনকর্মী বলে সারাজীবন বাঁকা কথা শুনতে হয় তাঁদের। এবার সসম্মানে নিজের পাড়ায় দুর্গাপুজো দেখবেন বসিরহাটের যৌনকর্মীরা। এতদিন তাঁদের দুর্গাপুজোর কোনো আচার অনুষ্ঠানে ঢোকার অনুমতি ছিল না। এমনকি অষ্টমীর অঞ্জলিটুকুও দিতে পারতেন না। এই প্রথমবার স্বাধীনতার স্বাদ পাবেন বিজলী, রমা, স্বপ্না, বিশাখারা। চোখের জল মুছতে মুছতে বেরিয়ে আসে তাঁদের আর্তনাদ, “এই বন্দিদশা কার ভালোলাগে বলুন তো? তবুও থাকতে হয়, যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই তাই…”।

দুর্গাপুজোর পাঁচটা দিন যখন নতুন নতুন পোশাকে রাস্তায় ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ, যখন আলোর রোশনায় চারদিক গমগম করে, কানে ভেসে আসে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র কিংবা ঢাক – তখন স্যাঁতসেঁতে ঘরের এক কোণে চুপটি করে বসে থাকা ছাড়া তাঁদের কিছু করার থাকে না। কেমন আছেন তাঁরা? পুজোর দিনগুলোতে কেমন থাকেন? বসিরহাট দুর্বার সমিতির পরিচালনায় মাটিয়ার নিষিদ্ধপল্লিতে এই প্রথমবার হতে চলেছে দুর্গাপুজো। সহযোগিতায় যৌনকর্মী এবং বাড়িওয়ালাবৃন্দ। তাই খুশিতে মাতোয়ারা সেখানকার প্রায় ৯৩০ জন যৌনকর্মী। পুজোর পাশাপাশি নাচ, গান পরিবেশনের জন্য জোরকদমে মহড়াও চলছে।

তাঁরাও তো মা। এই দুর্গাপুজোয় আসুন, সমস্ত জাতি বর্ণ পেশা ভুলে প্রত্যেকে প্রত্যেকের সঙ্গে উৎসবে সামিল হই।

Developed by DXDasia