
সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেল মোদী সরকার
তিন তালাকের পর ফের ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের অঙ্গ বলে জানিয়ে দিলেন ৯ বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। সংবিধানে গোপনীয়তা রক্ষার উল্লেখ নেই বলে ১৯৫০ সালে রায় দিয়েছিলেন বিচারপতি এমপি শর্মা। ১৯৬০ সালে সেই রায়ই বহাল রাখেন বিচারপতি খানক সিং। প্রায় ছয় দশকের পুরনো সেই রায় খারিজ করল ৯ সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ওই ডিভিশন বেঞ্চের বাকি সদস্যরা হলেন বিচারপতি জে চলমেশ্বর, এসএ বোবদে, আরকে আগরওয়াল, আরএফ নারিমান, এএম সাপরে, ডিওয়াই চন্দ্রডূড়, এসকে কৌল এবং এস আবদুল নাজির। নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের পক্ষে সর্বসম্মতি দিয়েছেন তাঁরা। বলা হয়েছে, ‘সংবিধানের ২১ নং অনুচ্ছেদে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত রয়েছে। মানুষের জীবন এবং স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই এই নিয়ে দ্বিমতের সুযোগ নেই।’ সেই সঙ্গে আদালত মন্তব্য করেছে, ‘ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার অর্থ মানুষের গোপনীয়তা খর্ব হচ্ছে। তাই আধার, প্যান এবং ক্রেডিট কার্ডের তথ্য কোনওমতেই প্রকাশ্যে আনা যাবে না।’ শুধুমাত্র ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার মৌলিক অধিকার নিয়েই আজ রায় শুনিয়েছে শীর্ষ আদালত। সরকারি প্রকল্পে আধার বাধ্যতামূলক করা নিয়ে পাঁচ সদস্যের একটি পৃথক বেঞ্চ গড়া হয়েছে। তাঁরাই ওই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। আধার কার্ডের বৈধতা সংক্রান্ত মামলার রায় শোনাবে ৩ সদস্যের আর একটি ডিভিশন বেঞ্চ।
আদালতের রায়কে ইতিমধ্যেই স্বাগত জানিয়েছে কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলি। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম টুইট করেন, ‘গোপনীয়তা রক্ষা মৌলিক অধিকার। ১৯৪৭ সালে যে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, তা আরও সমৃদ্ধ হল’। রণদীপ সুরজেওয়ালার মতে, ‘ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। সংবিধানের ফাঁকফোঁকর তুলে ধরে মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা গুঁড়িয়ে দিতে চেয়েছিল মোদি সরকার। সুপ্রিম কোর্ট সেই চেষ্টা রুখে দিয়েছে।’ প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনীশ তিওয়ারি বলেন, ‘ আশাকরি এবার অন্তঃত মোদি সরকার আমার রান্নাঘর, শোওয়ার ঘর এবং আলমারির কাছে ঘুরঘুর করবে না।’ যে সমস্ত আইনজীবী এবং সমাজকর্মীরা এই অধিকার নিয়ে লড়াই করছিলেন, তাঁদের অভিনন্দন জানিয়েছেন সিপিআই (এম) নেতা সীতারাম ইয়েচুরি। জম্মু–কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লা টুইট করেন, ‘আমার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার আছে। যা মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে’। আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামীও। টুইটারে লিখেছেন, ‘রায়কে স্বাগত জানাচ্ছি’। আধার কার্ড চালু হওয়ার পর নাগরিকদের গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে হচ্ছে বলে গত কয়েক মাসে একাধিক পিটিশন জমা পড়ে আদালতে। অভিযোগ ওঠে, আধার কার্ডের বহু তথ্য নাকি ইতিমধ্যেই ফাঁস হয়ে গিয়েছে। তথ্য ফাঁসের কথা মেনেও নেয় নরেন্দ্র মোদি সরকার। নাগরিকদের গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার সংবিধানের মৌলিক অধিকারের আওতায় পড়ে না বলে আদালতে জানিয়ে দেয় মোদি সরকার। বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখার সিদ্ধান্ত নেন প্রধান বিচারপতি জে এস খেহর। মৌলিক অধিকারের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নয় সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ গঠন করেন তিনি। সেই রায় আজ ঘোষিত হল।
