রাষ্ট্রপতি ভোটে হারতে পারে মোদির দল

জুলাই মাসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। বিজেপি পরপর জিতলেও এই ভোটে পালটে যেতে পারে অঙ্ক। হাসি ফুটতে পারে বিরোধীদের মুখেও। কীভাবে?

দেখতে দেখতে রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের পাঁচ বছর পূর্ণ হতে চলল। মাস দুয়েক পরে জুলাই মাসে আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। কী হতে পারে এবারে? ভারতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সরাসরি সাধারণ নাগরিকদের কোনও ভূমিকা নেই। সংসদে ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে নির্বাচিত জনপ্রিতিনিধিরাই কেবল ভোটার। লোকসভায় ৫৪৩ জন সদস্য এবং রাজ্যসভায় আছেন ২৩৩ জন, অর্থাৎ সাংসদ ভোটার মোট ৭৭৬ জন। আর সারা দেশে বিধানসভার সদস্য আছেন ৪ হাজার ১২০ জন। অবশ্য ভোটের দিনে সব সাংসদ ও বিধানসভা সদস্যদের আসন পূর্ণ থাকবে এবং তারা সবাই ভোট দেবেন, এটা ধরে নিয়েই এই হিসেব। এবারে দেখা যাক কার ভোটের মূল্য কত। অঙ্কটা শুরু করতে হবে বিধায়কদের ভোটের মূল্য দিয়ে। বিধায়কদের ভোটের মূল্য একেক রাজ্যে একেক রকম। নিয়ম হলো, ১৯৭১ সালে সেই রাজ্যে জনসংখ্যা যা ছিল, তাকে ওই রাজ্যের এমএলএ সংখ্যা দিয়ে ভাগ করতে হবে। এই ভাগফলকে এক হাজার দিয়ে ভাগ করে ভাগফলটিকে পূর্ণ সংখ্যায় রাউন্ড অফ করতে হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ১৯৭১ সালের জনগণনা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে জনসংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৪৩ লক্ষ ১২ হাজার ১১ জন। একে বিধায়ক সংখ্যা ২৯৪ দিয়ে ভাগ করলে হয় ১ লক্ষ ৫০ হাজার ৭২১। এই ভাগফলকে এক হাজার দিয়ে ভাগ করলে হয় ১৫০.৭২১। একে পূর্ণ সংখ্যায় রাউন্ড অফ করলে পাচ্ছি ১৫১। তাই এ রাজ্যে প্রতি এমএলএ-এর ভোট মূল্য ১৫১ এবং রাজ্যের সব বিধায়কের মিলিত ভোটমূল্য ৪৪ হাজার ৩৯৪। এভাবে সব রাজ্যের ভোট মূল্য স্থির করতে হবে। সবকটি রাজ্য ও দিল্লি এবং পুদুচ্চেরিতে মোট বিধায়কদের সংখ্যা ৪ হাজার ১২০ জন। হিসেব করে দেখা যাচ্ছে, সব রাজ্য ও দিল্লি এবং পুদুচ্চেরির বিধায়কদের ভোটের মিলিত মূল্য ৫ লক্ষ ৪৯ হাজার ৪৭৪।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাংসদদের মোট ভোট-মূল্য ও বিধায়কদের মোট ভোট-মূল্য প্রায় সমান। হিসেবটা হলো, বিধায়কদের মোট ভোট-মূল্য ৫ লক্ষ ৪৯ হাজার ৪৭৪-কে সাংসদ সংখ্যা দিয়ে ভাগ করতে হবে। সেই হিসেবে প্রতি সাংসদের ভোট-মূল্য হচ্ছে ৫,৪৯,৪৭৪ ভাগ ৭৭৬ = ৭০৮ (রাউন্ড অফ করে পূর্ণ সংখ্যায়)। তাই সাংসদদের মোট ভোট-মূল্য ৭০৮x৭৭৬= ৫,৪৯,৪০৮। অর্থাৎ সাংসদ ও বিধায়কদের মোট ভোট মূল্য ৫,৪৯,৪৭৪ + ৫,৪৯,৪০৮ = ১০,৯৮,৮৮২। অর্থাৎ ৫ লক্ষ ৪৯ হাজার ৪৪২ ভোট পেলে জেতা যাবে।

এবার দেখা যাক রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য কেমন। মাস দুয়েক আগে পাঁচ রাজ্য বিধানসভা ভোট হলো। তার আগে বিজেপির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স-এর ভোট-মূল্য ছিল ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার ৩৬৬। বাকি সবার মিলিত ভোট-মূল্য ছিল ৬ লক্ষ ২৪ হাজার ৫১৬। অর্থাৎ সব বিরোধীরা এক থাকলে জেতা কোনও সমস্যাই ছিল না। কিন্তু উত্তর প্রদেশ সহ পাঁচ রাজ্যের ভোটে সব বিরোধীরা এক হতে না পারায় বিজেপি বিরাট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যায়। আর তার ফলে বদলে যায় রাজনৈতিক ভারসাম্যও। এখন বিজেপির হাতে রয়েছে ৫ লক্ষ ২৯ হাজার ৩৯৮ ভোটমূল্য আর বাকি সবার মিলিতভাবে আছে ৫ লক্ষ ৬৯ হাজার ৪৮৪ ভোটমূল্য, অর্থাৎ বিরোধীরা এগিয়ে আছে ৪০ হাজার ৮৬ ভোটে। এখন বিজেপি যদি এনডিএ-র বাইরের কোনও শক্তিকে শামিল করতে পারে, বা দল ভাঙাতে পারে (এ ব্যাপারে বিজেপি যে সিদ্ধহস্ত, তাতো পাঁচ রাজ্যের ভোটের পরেই দেখা গেছে), তাহলে তারা ম্যাজিক ফিগার টপকে যেতে পারে। এটার সম্ভাবনা আছে, যেমন, উড়িষ্যার বিজু জনতা দলের হাতে রয়েছে ১৭ হাজার ৪৩৩ ভোট। এটা পেলে এবং কিছু নির্দলের সমর্থন আদায় করতে পারলে এনডিএ-র কেল্লা ফতে হতে পারে। আবার তামিলনাড়ুর এআইএডিএমকে-র হাতে রয়েছে ২৩ হাজার ৫৮৪ ভোটমূল্য। যদিও এখন ওই দলে বেশ ডামাডোল চলছে, তাহলে অঙ্কের হিএসবটা এই। মোট কথা এখন যা আছে তার সঙ্গে আরও ২০ হাজার ৪৪ ভোট যোগ করতে পারলেই মোদি নিজের পছন্দের রাষ্ট্রপতি পেয়ে যাবেন। আর এনডিএ-র বাইরের সব দল একত্র হলে তবে মোদি-অমিত শাহ কাত হবেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে জুতসই প্রার্থী দরকার, যাকে সবাই সম্মান করবে। প্রণববাবু ভেবে দেখবেন কি?

Developed by DXDasia