
আকাশবাণী-র ৯০ বছর এবং প্রসার ভারতী আইনের ২০ বছর পূর্তিতে ফিরে দেখা ইতিহাস
যদি প্রশ্ন করা হয় ২০১৭ সালটা কোন কারণে স্মরণীয়? অনেকেই হাত তুলে বলবেন এটা রুশ বিপ্লবের শতবর্ষ। কথাটা মিথ্যা নয়। কিন্তু তার পর? এই বছরে কিন্তু আকাশবাণী ৯০ বছরে পদাপর্ণ করল। সেই ইতিহাসে মাইল স্টোন হয়ে আছে দেশের দু’টি শহর- মুম্বাই এবং কলকাতা। ১৯২৭ সালের ২৩ জুলাই মুম্বাইয়ে প্রথম পেশাদার বেতার সম্প্রচার শুরু হয়। সেই বছরের ৩১ আগস্ট বেতার চলে আসে কলকাতায়।
ভারতে টেলিভিশন এসেছে ১৯৫৯ সালে রাজধানী দিল্লিতে। কলকাতায় তার আবির্ভাব ১৯৭৫-এ। দীর্ঘদিন দূরদর্শন আকাশবাণীর অধীনেই ছিল। ১৯৭৬ সালে দূরদর্শনের জন্য পৃথক ডাইরেকটরেট তৈরি হয়।
ছোট্ট বিরতির পর। মাত্র তিনটি শব্দ। কিন্তু আমাদের ঘরে ঘরে সব বয়সের মানুষের কাছে তা সমান পরিচিত। কথাটার বহুল ব্যবহার অনেকের কাছে বিরক্তিকর। কিন্তু দর্শকদের কাছে তা যতই বিরক্তি উৎপাদন করুক ওই একটি লাইনের মধ্যেই লুকিয়ে আছে প্রতিটি চ্যানেলের প্রাণ ভ্রমরা, তার বেঁচে থাকার অক্সিজেন।
কোন চ্যানেলের দর্শক সংখ্যা কত বা আরও স্পষ্ট করে বললে কোন চ্যানেলের কোন অনুষ্ঠানের জনপ্রিয়তা বেশী তার উপরেই নির্ভর করবে বিজ্ঞাপন প্রচারের দক্ষিণার অঙ্ক। চ্যানেলে চ্যানেলে সেই অঙ্কের মধ্যে যেমন ব্যবধান আছে তেমনি আছে একই চ্যানেলের বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যেও।
এই যে এত চ্যানেলের ছড়াছড়ি তাতেই আমরা মুগ্ধ। কিন্তু এই উন্মাদনার মধ্যে একটি বিষয় একেবারে হারিয়ে যাচ্ছে। সেটা হল এই সব মিডিয়ার ইতিহাস। কিন্তু সেই ইতিহাস চর্চা আমাদের সাংস্কৃতিক পরম্পরাকে সম্যক উপলব্ধি করার জন্য বিশেষ জরুরি।
এই দেশে আকাশবাণী যখন চালু হয় তখন থেকেই একটা দাবী জোরদার হতে থাকে যে আকাশবাণীকেও বিবিসির মত স্বয়ং শাসন দেওয়া উচিত। অর্থাৎ তার উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ বন্ধ হোক।
বিষয়টি নিয়ে বহু বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই বিষয়ে পাকা সিদ্ধান্তে আসতে অনেক সময় লেগে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৯৮৯ সালে ভি.পি সিং প্রধানমন্ত্রী থাকা কালে তথ্য ও বেতার মন্ত্রী পি উপেন্দ্রর নেতৃত্বে লোকসভা ও রাজ্যসভায় সর্বসম্মতিক্রমে একটি আইন পাশ করে আকাশবাণী ও দূরদর্শনকে স্বশাসন দেওয়া হয়। সেই আইনের নামই ‘প্রসার ভারতী’।
আইনটি সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হওয়ার পরেও তা গেজেটে বিজ্ঞাপিত করতে লেগে যায় আরও আট বছর। ১৯৯৭ সালে জয়পাল রেড্ডি যখন তথ্য ও বেতার মন্ত্রী তখনই আইনটি গেজেটে বিজ্ঞাপিত হয়। সেই অর্থে এই বছরে ‘প্রসার ভারতী’র বিশ বছর পূর্ণ হল। তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হচ্ছে ১৯৯৭ সালের ২৩ জুলাই আইনটি গেজেটে বিজ্ঞাপিত হয়। দিনটি ছিল আকাশবাণীর ৭০ বছর পূর্তি দিবস।
একটা সময়ে অনেকে ভাবতেন আকাশবাণী-দূরদর্শনের সরকারি মুঠোর মধ্যেই থাকা উচিত। আরেকদল মনে করতেন সব চ্যানেলই বেসরকারি মালিকানায় চলা উচিত। এই দুই প্রবল মতের মাঝখানে একটি তৃতীয় মত আছে যেটা সহজে নজরে পড়ে না। তা হল সরকারি এবং বেসরকারি নিয়ন্ত্রনের বাইরে জনগণের টাকাতেই চলবে সম্প্রচার মাধ্যম রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে – যার নাম পাবলিক ব্রডকাস্টিং- যার উজ্জ্বল নজির হল বিবিসি।
ফলে ‘ছোট্ট বিরতি পর’ শব্দ তিনটি যতই ছোট হোক তার পিছনে লুকিয়ে আছে অনেক লম্বা ইতিহাস। সেই ইতিহাসকে আমরা উপেক্ষা করতে পারি না।
