
ক্যান্টিন বাঁচাতে সোচ্চার প্রাক্তনী থেকে বর্তমান পড়ুয়ারা
দ্য থ্রি পি’স অফ প্রেসিডেন্সি মানে পড়াশুনা, পলিটিকস এবং প্রমোদদা। প্রেসিডেন্সিতে কান পাতলেই শোনা যায় গ্র্যাজুয়েটেড ক্যান্টিন অনার্স বা ক্যান্টিনোলজি’র মত নানা টিজে। ছাত্র-ছাত্রীরা কলেজে ঢুকেই কিছুক্ষণ প্রমোদদার ক্যান্টিনে বিশ্রাম করেই তারপর ক্লাসে ঢোকা একটি অতিপরিচিত অভ্যাস পড়ুয়াদের। কিন্তু এই প্রমোদদার ক্যান্টিন তুলে দেয়ার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ডাকা হয়েছে টেন্ডার। উপাচার্য অনুরাধা লোহিয়ার বক্তব্য, সম্পূর্ণ বিষয়টিতে স্বচ্ছতা রেখেই টেন্ডার ডাকা হয়েছে। প্রমোদদার ক্যান্টিন তুলে দেওয়ার প্রতিবাদে একত্রিত হয়েছেন প্রাক্তনী ও নতুন প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীরা।
৪৭ বছর আগে প্রমোদ সাঁই এসেছিলেন এই শহরে কাজের সন্ধানে। ওড়িশার বাসিন্দা প্রমোদদার কাছে প্রেসিডেন্সি কলেজই হয়ে গেছে ফার্স্ট হাউজ। প্রমোদদার কথায়, ছাত্র-ছাত্রীরা আমার ছেলে-মেয়ে। তাদের যেমন বকাবকি করি, তেমনি ভালোও বাসি। ওরা আমার পরিবারকে নানাভাবে সাহায্য করে। এই আন্তরিকতার জন্য প্রমোদ সাঁই আজ কলেজের সকলের কাছে প্রমোদদা। কিন্তু এই স্মৃতিবিজড়িত ক্যান্টিনকে উঠিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে একত্রিত হয়েছে ছাত্রছাত্রীরা। এক প্রাক্তনীর কথায়, ‘টেন্ডারে এমন সব শর্ত দেওয়া হয়েছে, যা প্রমোদদার পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়। ক্যান্টিন থেকে বছরে মোট ৫০লক্ষ টাকা আয় হলে তবেই টেন্ডারে আবেদন করা যাবে। এত ব্যবসা করা কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিন মালিকের পক্ষেই সম্ভব নয়।’ পড়ুয়াদের কথায় এই ক্যান্টিনে অত্যাধুনিকে ছোয়া না থাকলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক স্মৃতি। স্মৃতি বিজাড়িত এই মানুষটিকে না সরিয়ে অন্তত রাখা হোক ক্যান্টিন ম্যানেজার হিসাবে।
